Dhaka ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালে শান্তির প্রত্যাশা ইউক্রেনবাসীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ Time View

বিদেশ : রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টানা চতুর্থবারের মতো নববর্ষ উদ্যাপন করতে গিয়ে ইউক্রেনবাসী বলেছেন, ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া শান্তি। একই সঙ্গে তাঁরা চান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অবসান, যা তাঁদের ভাষায় জীবনকে ‘নরকসম’ করে তুলেছে। ইউক্রেনের ভিশগোরোদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২৫ সালের শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরো জোরদার করে রাশিয়া। এতে তীব্র শীতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে কয়েক সহস্র মানুষ বিদ্যুৎ ও উষ্ণতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কিয়েভের উপশহর ভিশগোরোদের বাসিন্দারা এএফপিকে বলেন, চার দিন ধরে চলা বিদ্যুৎহীনতা নববর্ষের ঠিক আগে শেষ হলেও তাঁদের একটাই চাওয়া—যুদ্ধ যেন ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শেষ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সিলিং ফিটার কোস্তিয়ানতিন বাইদেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আর কীই-বা চাইতে পারি? এমন সময়ে এর বাইরে আর কিছু মাথায় আসে না।’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। ভিশগোরোদের একটি বিউটি স্যালনের ব্যবস্থাপক দারিয়া লুশচিক বলেন, বিমান হামলার সতর্কতায় আশ্রয়কেন্দ্রে নেমেই কর্মীদের গ্রাহকদের কাজ শেষ করতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাজকে ‘নরকতুল্য’ করে তুলেছিল। তবু গ্রাহকরা আসা বন্ধ করেননি, বলেন তিনি। দারিয়া বলেন, ‘সবাই কোনো না কোনোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং বোঝে—থেমে যাওয়া একেবারেই বিকল্প নয়। তিনি যোগ করেন, ‘নিজেদের সাজিয়ে তুলতে ইউক্রেনের মেয়েদের কিছুই থামাতে পারে না।’ ২০২৬ সালের জন্য তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া কী—জানতে চাইলে দারিয়া বলেন, ‘অবশ্যই শান্তি।’ তবে সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছা প্রকাশ্যে বলা ঠিক নয়—তাতে নাও পূরণ হতে পারে। রাশিয়া বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ন্যাটোর সমপ্রসারণ ঠেকাতেই এই আগ্রাসন, যাকে কিয়েভ ও তার মিত্ররা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইউক্রেনের বহু শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। পেনশনভোগী নেউনিলা বলেন, মোমবাতির আলোয় ও মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে বিদ্যুৎহীনতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন ইউক্রেনবাসী। তবে এ নববর্ষে তাঁর মনে কোনো আনন্দ নেই, বলেন তিনি। আমরা ঘরেই সাদাসিধেভাবে উদ্যাপন করব। কোনো জাঁকজমক নেই. বলেন নেউনিলা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভিশগোরোদের কর্তৃপক্ষ ‘রেজিলিয়েন্স সেন্টার’ স্থাপন করে। সেখানে বাসিন্দারা মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ইভান ওলেঙ্ইিয়োভিচ এএফপিকে বলেন, শহরটি ‘ভারী বোমাবর্ষণের’ শিকার হয়েছে। তিনি হামলাগুলোকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি ক্রেমলিনের কাছ থেকে বড় কোনো ছাড় আদায় করতে পারেননি। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য পরিকল্পনা করতে অনিচ্ছার কথা জানান নেউনিলা। নতুন বছরের জন্য তাঁর চাওয়াও খুব বেশি নয়। তিনি বলেন, ‘আলো থাকুক। বাকিটা আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

২০২৬ সালে শান্তির প্রত্যাশা ইউক্রেনবাসীর

Update Time : ১০:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টানা চতুর্থবারের মতো নববর্ষ উদ্যাপন করতে গিয়ে ইউক্রেনবাসী বলেছেন, ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া শান্তি। একই সঙ্গে তাঁরা চান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অবসান, যা তাঁদের ভাষায় জীবনকে ‘নরকসম’ করে তুলেছে। ইউক্রেনের ভিশগোরোদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২৫ সালের শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরো জোরদার করে রাশিয়া। এতে তীব্র শীতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে কয়েক সহস্র মানুষ বিদ্যুৎ ও উষ্ণতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কিয়েভের উপশহর ভিশগোরোদের বাসিন্দারা এএফপিকে বলেন, চার দিন ধরে চলা বিদ্যুৎহীনতা নববর্ষের ঠিক আগে শেষ হলেও তাঁদের একটাই চাওয়া—যুদ্ধ যেন ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শেষ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সিলিং ফিটার কোস্তিয়ানতিন বাইদেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আর কীই-বা চাইতে পারি? এমন সময়ে এর বাইরে আর কিছু মাথায় আসে না।’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। ভিশগোরোদের একটি বিউটি স্যালনের ব্যবস্থাপক দারিয়া লুশচিক বলেন, বিমান হামলার সতর্কতায় আশ্রয়কেন্দ্রে নেমেই কর্মীদের গ্রাহকদের কাজ শেষ করতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাজকে ‘নরকতুল্য’ করে তুলেছিল। তবু গ্রাহকরা আসা বন্ধ করেননি, বলেন তিনি। দারিয়া বলেন, ‘সবাই কোনো না কোনোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং বোঝে—থেমে যাওয়া একেবারেই বিকল্প নয়। তিনি যোগ করেন, ‘নিজেদের সাজিয়ে তুলতে ইউক্রেনের মেয়েদের কিছুই থামাতে পারে না।’ ২০২৬ সালের জন্য তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া কী—জানতে চাইলে দারিয়া বলেন, ‘অবশ্যই শান্তি।’ তবে সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছা প্রকাশ্যে বলা ঠিক নয়—তাতে নাও পূরণ হতে পারে। রাশিয়া বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ন্যাটোর সমপ্রসারণ ঠেকাতেই এই আগ্রাসন, যাকে কিয়েভ ও তার মিত্ররা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইউক্রেনের বহু শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। পেনশনভোগী নেউনিলা বলেন, মোমবাতির আলোয় ও মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে বিদ্যুৎহীনতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন ইউক্রেনবাসী। তবে এ নববর্ষে তাঁর মনে কোনো আনন্দ নেই, বলেন তিনি। আমরা ঘরেই সাদাসিধেভাবে উদ্যাপন করব। কোনো জাঁকজমক নেই. বলেন নেউনিলা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভিশগোরোদের কর্তৃপক্ষ ‘রেজিলিয়েন্স সেন্টার’ স্থাপন করে। সেখানে বাসিন্দারা মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ইভান ওলেঙ্ইিয়োভিচ এএফপিকে বলেন, শহরটি ‘ভারী বোমাবর্ষণের’ শিকার হয়েছে। তিনি হামলাগুলোকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি ক্রেমলিনের কাছ থেকে বড় কোনো ছাড় আদায় করতে পারেননি। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য পরিকল্পনা করতে অনিচ্ছার কথা জানান নেউনিলা। নতুন বছরের জন্য তাঁর চাওয়াও খুব বেশি নয়। তিনি বলেন, ‘আলো থাকুক। বাকিটা আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে।’