Dhaka ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মৃতিভ্রংশে নিভে যাচ্ছেন ভানুপ্রিয়া, একসময়ের চার ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ Time View

বিনোদন: দক্ষিণ ভারতীয় চার ভাষায় একসময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। নৃত্যে দক্ষতা ছিল অবিশ্বাস্য। বলিউডেও সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন। সেই আলো ঝলমলে পথ পেরিয়ে এখন ভানুপ্রিয়াকে চেনাই কঠিন। স্মৃতিভ্রংশে ভুগে ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন এই প্রভাবশালী অভিনেত্রী। দক্ষিণের জনপ্রিয় ছবিগুলোর কথা বলতে গেলে ২০০০ সালের মালয়ালম ছবি ‘কছু কছু সানথোসাঙ্গল’-এর আলোচিত গান ‘শিবাকারাথামারুকালায়ামায় নাদাম’-এ তাঁর সেমি ক্ল্যাসিক্যাল নাচের কথাই সবার আগে মনে পড়ে। ইলাইয়ারাজার সুর আর ভানুপ্রিয়ার অনবদ্য নৃত্য মিলে গানটিকে পরিণত করেছিল এক অনন্য শিল্পকর্মে। এর আগেই ১৯৮৩ সালে ‘মেলা পেসুনগাল’ দিয়ে ক্যামেরার সামনে পথচলা শুরু করেন তিনি। চোখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা আর নাচে পারদর্শিতা তাঁকে দ্রুতই তুলে আনে তামিল ও তেলেগু ছবির শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের কাতারে। অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন প্রযোজক-পরিচালকদের প্রথম পছন্দ। আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাও, কৃষ্ণ, চিরঞ্জীবী, নন্দামুরি বালকৃষ্ণ, বিজয়কান্ত থেকে শুরু করে কার্তিক, ভেঙ্কটেশ-প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। বলিউডেও তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়। জিতেন্দ্রর ‘দোস্তি দুশমনি’, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ‘ইনসাফ কি পুকার’, রাজকুমার ও বিনোদ খন্নার ‘সুরিয়া: অ্যান অ্যাওয়াকনিং’, মিঠুনের সঙ্গে ‘গরিবো কা দাতা’-একাধিক ছবিতে তিনি ছিলেন সরব। মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯২ সালে মোহনলালের সঙ্গে ‘রাজাশিল্পী’ ছবিতে অভিষেকেই দর্শকদের মন জয় করেন। এর আগে ও পরে ‘থালাপথি’-তে রজনীকান্তের বিপরীতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। কেবি বালাচন্দরের ‘আঝাগন’-এ মাম্মুটির সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যক্তিজীবনের অস্থিরতা তাঁর শিল্পজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯৮ সালে প্রকৌশলী আদর্শ কৌশলকে বিয়ে করেন ভানুপ্রিয়া। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর একমাত্র মেয়ে অভিনয়াকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। ২০১৮ সালে হৃদ্রোগে স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবনে নেমে আনে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই স্মৃতিভ্রংশে ভুগতে শুরু করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার শরীর ভালো নেই। হঠাৎ হঠাৎ স্মৃতি হারিয়ে ফেলি। শেখা জিনিস ভুলে যাই। নাচের প্রতি আর আগ্রহ পাই না। ”২০২২ সালে একটি ছবির শুটিংয়ে ক্যামেরা চলার সময় সংলাপ ভুলে গেলে তাঁর অসুস্থতা আরও স্পষ্ট হয়। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন শিবা কার্তিকেয়নের ‘আয়ালান’ ছবিতে, যা মুক্তি পায় ২০২৪ সালে। একসময় দক্ষিণ ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন ভানুপ্রিয়া। আজ সময়ের নির্মমতায় তিনি নীরব। তবু তাঁর অভিনয়, নৃত্য আর পর্দার জাদু এখনো দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অমলিন হয়ে রয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

স্মৃতিভ্রংশে নিভে যাচ্ছেন ভানুপ্রিয়া, একসময়ের চার ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার

Update Time : ০৬:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বিনোদন: দক্ষিণ ভারতীয় চার ভাষায় একসময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। নৃত্যে দক্ষতা ছিল অবিশ্বাস্য। বলিউডেও সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন। সেই আলো ঝলমলে পথ পেরিয়ে এখন ভানুপ্রিয়াকে চেনাই কঠিন। স্মৃতিভ্রংশে ভুগে ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন এই প্রভাবশালী অভিনেত্রী। দক্ষিণের জনপ্রিয় ছবিগুলোর কথা বলতে গেলে ২০০০ সালের মালয়ালম ছবি ‘কছু কছু সানথোসাঙ্গল’-এর আলোচিত গান ‘শিবাকারাথামারুকালায়ামায় নাদাম’-এ তাঁর সেমি ক্ল্যাসিক্যাল নাচের কথাই সবার আগে মনে পড়ে। ইলাইয়ারাজার সুর আর ভানুপ্রিয়ার অনবদ্য নৃত্য মিলে গানটিকে পরিণত করেছিল এক অনন্য শিল্পকর্মে। এর আগেই ১৯৮৩ সালে ‘মেলা পেসুনগাল’ দিয়ে ক্যামেরার সামনে পথচলা শুরু করেন তিনি। চোখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা আর নাচে পারদর্শিতা তাঁকে দ্রুতই তুলে আনে তামিল ও তেলেগু ছবির শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের কাতারে। অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন প্রযোজক-পরিচালকদের প্রথম পছন্দ। আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাও, কৃষ্ণ, চিরঞ্জীবী, নন্দামুরি বালকৃষ্ণ, বিজয়কান্ত থেকে শুরু করে কার্তিক, ভেঙ্কটেশ-প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। বলিউডেও তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়। জিতেন্দ্রর ‘দোস্তি দুশমনি’, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ‘ইনসাফ কি পুকার’, রাজকুমার ও বিনোদ খন্নার ‘সুরিয়া: অ্যান অ্যাওয়াকনিং’, মিঠুনের সঙ্গে ‘গরিবো কা দাতা’-একাধিক ছবিতে তিনি ছিলেন সরব। মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯২ সালে মোহনলালের সঙ্গে ‘রাজাশিল্পী’ ছবিতে অভিষেকেই দর্শকদের মন জয় করেন। এর আগে ও পরে ‘থালাপথি’-তে রজনীকান্তের বিপরীতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। কেবি বালাচন্দরের ‘আঝাগন’-এ মাম্মুটির সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যক্তিজীবনের অস্থিরতা তাঁর শিল্পজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯৮ সালে প্রকৌশলী আদর্শ কৌশলকে বিয়ে করেন ভানুপ্রিয়া। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর একমাত্র মেয়ে অভিনয়াকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। ২০১৮ সালে হৃদ্রোগে স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবনে নেমে আনে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই স্মৃতিভ্রংশে ভুগতে শুরু করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার শরীর ভালো নেই। হঠাৎ হঠাৎ স্মৃতি হারিয়ে ফেলি। শেখা জিনিস ভুলে যাই। নাচের প্রতি আর আগ্রহ পাই না। ”২০২২ সালে একটি ছবির শুটিংয়ে ক্যামেরা চলার সময় সংলাপ ভুলে গেলে তাঁর অসুস্থতা আরও স্পষ্ট হয়। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন শিবা কার্তিকেয়নের ‘আয়ালান’ ছবিতে, যা মুক্তি পায় ২০২৪ সালে। একসময় দক্ষিণ ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন ভানুপ্রিয়া। আজ সময়ের নির্মমতায় তিনি নীরব। তবু তাঁর অভিনয়, নৃত্য আর পর্দার জাদু এখনো দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অমলিন হয়ে রয়েছে।