Dhaka ০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৯ Time View

বিদেশ : শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার। মুনাফার লোভে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে গড়ে তোলার এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি বিশ্বের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। স্থানীয় সময় গত সোমাবর নিউ মেঙ্েিকার আদালতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে। সরকারি আইনজীবীদের করা মামলটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) শিশুদের যৌন উত্তেজক ও আপত্তিকর কন্টেন্ট থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে এই সপ্তাহের শেষে আরেকটি মামলা শুরু হবে, যেখানে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে শিশুরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। খবর আলজাজিরার। আগে এই তালিকায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটও ছিল, কিন্তু তারা গোপন চুক্তির মাধ্যমে মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা মোট ৪০টি মামলা করেছেন, যার প্রথম ধাপ নিউ মেঙ্েিকা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মামলাগুলো।

নিউ মেঙ্েিকা মামলা
২০২৩ সালে করা এই মামলায় প্রসিকিউটররা গত সোমবার আদালতকে জানান, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ওপর তাদের অ্যাপের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা লুকিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডোনাল্ড মিল্লিওরি স্পষ্টভাবে বলেন, মেটার কাছে ব্যবসার মুনাফাই বড় ছিল, শিশুদের নিরাপত্তা নয়। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, কোম্পানিটি এমন কিছু এআই চ্যাটবট তৈরি করেছিল যা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ক্যালিফোর্নিয়া মামলা
ক্যালিফোর্নিয়ার এই মামলাটি অনেক বেশি বিস্তৃত। এখানে মূল অভিযোগ হলো— মেটা ও ইউটিউব ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অ্যাপগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে শিশুরা একবার ব্যবহার শুরু করলে আর বের হতে না পারে। এই মামলার প্রধান উদাহরণ হিসেবে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী (কেজিএম) দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে তিনি ভয়াবহ বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, মেটা ও ইউটিউব অনেকটা জুয়ার বোর্ড (স্লট মেশিন) বা তামাক শিল্পের মতো কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের মস্তিষ্ককে আসক্ত করে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলায় মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ নিজে সাক্ষ্য দেবেন। তবে কোম্পানিগুলো এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অনেক ব্যবস্থা নিয়েছেন। ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছে তার দায়ভার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত না।

ভবিষ্যৎ প্রভাব
সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল’য়ের অধ্যাপক এরিক গোল্ডম্যান আলজাজিরাকে বলেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিষেবাগুলোর জন্য অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। যদি কোম্পানিগুলো দায়ী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের এত পরিমাণ জরিমানা দিতে হতে পারে যা তাদের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি হতে পারে। এই মামলার রায় ভিডিও গেম বা জেনারেটিভ এআইয়ের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

Tag :
About Author Information

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু

Update Time : ১১:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার। মুনাফার লোভে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে গড়ে তোলার এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি বিশ্বের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। স্থানীয় সময় গত সোমাবর নিউ মেঙ্েিকার আদালতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে। সরকারি আইনজীবীদের করা মামলটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) শিশুদের যৌন উত্তেজক ও আপত্তিকর কন্টেন্ট থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে এই সপ্তাহের শেষে আরেকটি মামলা শুরু হবে, যেখানে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে শিশুরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। খবর আলজাজিরার। আগে এই তালিকায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটও ছিল, কিন্তু তারা গোপন চুক্তির মাধ্যমে মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা মোট ৪০টি মামলা করেছেন, যার প্রথম ধাপ নিউ মেঙ্েিকা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মামলাগুলো।

নিউ মেঙ্েিকা মামলা
২০২৩ সালে করা এই মামলায় প্রসিকিউটররা গত সোমবার আদালতকে জানান, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ওপর তাদের অ্যাপের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা লুকিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডোনাল্ড মিল্লিওরি স্পষ্টভাবে বলেন, মেটার কাছে ব্যবসার মুনাফাই বড় ছিল, শিশুদের নিরাপত্তা নয়। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, কোম্পানিটি এমন কিছু এআই চ্যাটবট তৈরি করেছিল যা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ক্যালিফোর্নিয়া মামলা
ক্যালিফোর্নিয়ার এই মামলাটি অনেক বেশি বিস্তৃত। এখানে মূল অভিযোগ হলো— মেটা ও ইউটিউব ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অ্যাপগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে শিশুরা একবার ব্যবহার শুরু করলে আর বের হতে না পারে। এই মামলার প্রধান উদাহরণ হিসেবে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী (কেজিএম) দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে তিনি ভয়াবহ বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, মেটা ও ইউটিউব অনেকটা জুয়ার বোর্ড (স্লট মেশিন) বা তামাক শিল্পের মতো কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের মস্তিষ্ককে আসক্ত করে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলায় মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ নিজে সাক্ষ্য দেবেন। তবে কোম্পানিগুলো এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অনেক ব্যবস্থা নিয়েছেন। ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছে তার দায়ভার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত না।

ভবিষ্যৎ প্রভাব
সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল’য়ের অধ্যাপক এরিক গোল্ডম্যান আলজাজিরাকে বলেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিষেবাগুলোর জন্য অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। যদি কোম্পানিগুলো দায়ী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের এত পরিমাণ জরিমানা দিতে হতে পারে যা তাদের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি হতে পারে। এই মামলার রায় ভিডিও গেম বা জেনারেটিভ এআইয়ের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।