Dhaka ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে সেনা-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ Time View

বিদেশ : মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর আগে প্রথম দফার ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে জান্তার শাসন আনুষ্ঠানিক হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকার উৎখাত করে। ওই সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে আটক করা হয়। অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির বিস্তীর্ণ অংশে প্রভাব ফেলেছে। সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় লাভ করেছিল। চলতি নির্বাচনের জন্য দলটি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয় এবং পরে জান্তাবিরোধী অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ভোটে অংশ নেয়নি। জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বাস্তব কোনো বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন ‘প্রহসন’ হিসাবে বিবেচিত হবে। প্রথম দফার ভোটে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে দলটি। ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২.১৩ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের তুলনায় অনেক কম। ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপির ভূমিধস জয় অবাক করা বিষয় নয়। নির্বাচনী মাঠ তাদের অনুকূলে রাখা হয়েছে, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সরানো হয়েছে এবং ভোট বিরোধী কার্যক্রম দমন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’ চূড়ান্ত দফার ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হবে, যার মধ্যে কিছু এলাকায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। সেনা নির্বাচনকে দেশকে রাজনৈতিক স্থিরতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে দেশটি এশিয়ার অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনা-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গঠন ঝুঁকিপূর্ণ, এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচনের সফলতা উল্লেখ করেছেন এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

মিয়ানমারে সেনা-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শুরু

Update Time : ১১:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর আগে প্রথম দফার ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে জান্তার শাসন আনুষ্ঠানিক হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকার উৎখাত করে। ওই সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে আটক করা হয়। অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির বিস্তীর্ণ অংশে প্রভাব ফেলেছে। সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় লাভ করেছিল। চলতি নির্বাচনের জন্য দলটি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয় এবং পরে জান্তাবিরোধী অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ভোটে অংশ নেয়নি। জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বাস্তব কোনো বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন ‘প্রহসন’ হিসাবে বিবেচিত হবে। প্রথম দফার ভোটে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে দলটি। ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২.১৩ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের তুলনায় অনেক কম। ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপির ভূমিধস জয় অবাক করা বিষয় নয়। নির্বাচনী মাঠ তাদের অনুকূলে রাখা হয়েছে, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সরানো হয়েছে এবং ভোট বিরোধী কার্যক্রম দমন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’ চূড়ান্ত দফার ভোট আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হবে, যার মধ্যে কিছু এলাকায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। সেনা নির্বাচনকে দেশকে রাজনৈতিক স্থিরতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে দেশটি এশিয়ার অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনা-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গঠন ঝুঁকিপূর্ণ, এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচনের সফলতা উল্লেখ করেছেন এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।