Dhaka ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিক মিয়ায় ওসমান হাদির শেষ বিদায়, জানাজা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮ Time View

জুলাই গণআন্দোলনের অগ্রণী মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির জানাজা ঘিরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শোক আর ক্ষোভের আবহে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনার পর থেকেই রাজধানীতে শোকের আবহ তৈরি হয়। রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ শোক মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হন। শনিবার সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের জনসমাগম হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কেউ ব্যাগ বা ভারী বস্তু নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং পুরো এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, জানাজা উপলক্ষে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানাজায় বিপুল লোকসমাগম হবে বলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

জনসমাগম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আগের দিন রাজধানীতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শনিবার সকালে অনেক সড়কে অস্বাভাবিক নীরবতা দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহন কম চলেছে, কিছু এলাকায় দোকানপাটও খোলেনি।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরীফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে শনিবার সারা দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

মানিক মিয়ায় ওসমান হাদির শেষ বিদায়, জানাজা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

Update Time : ০৭:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণআন্দোলনের অগ্রণী মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির জানাজা ঘিরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শোক আর ক্ষোভের আবহে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনার পর থেকেই রাজধানীতে শোকের আবহ তৈরি হয়। রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ শোক মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হন। শনিবার সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের জনসমাগম হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কেউ ব্যাগ বা ভারী বস্তু নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং পুরো এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, জানাজা উপলক্ষে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানাজায় বিপুল লোকসমাগম হবে বলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

জনসমাগম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আগের দিন রাজধানীতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শনিবার সকালে অনেক সড়কে অস্বাভাবিক নীরবতা দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহন কম চলেছে, কিছু এলাকায় দোকানপাটও খোলেনি।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরীফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে শনিবার সারা দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল।