Dhaka ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ ঢাকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ Time View

ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শেরেবাংলা নগরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়। তলবের পর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল, যা বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, কূটনৈতিক মিশনের সামনে হামলা ও ভাঙচুর শুধু কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি ও সহনশীলতার মৌলিক নীতিরও পরিপন্থি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সূত্র জানায়, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে প্রবেশ করেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ও আবাসস্থলের বাইরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ভাঙচুরের বিষয়টি ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে অবহিত করেছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা থেকে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা অনুযায়ী কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সরকার অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশের।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ ঢাকার

Update Time : ১২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শেরেবাংলা নগরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়। তলবের পর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল, যা বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, কূটনৈতিক মিশনের সামনে হামলা ও ভাঙচুর শুধু কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি ও সহনশীলতার মৌলিক নীতিরও পরিপন্থি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সূত্র জানায়, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে প্রবেশ করেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ও আবাসস্থলের বাইরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ভাঙচুরের বিষয়টি ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে অবহিত করেছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা থেকে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা অনুযায়ী কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সরকার অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশের।