Dhaka ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়িং থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ কেনার জন্য তৈরি ভারত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫ Time View

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামপ্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দেশটির উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্ডার দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এতে ভারতুযুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সমপ্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পীযূষ গয়াল জানান, এখনো বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের উড়োজাহাজের চাহিদা প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সমান। এর সঙ্গে ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ খাতে ভারতের আমদানি ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সিএনবিসি খবর প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সামপ্রতিক সমঝোতায় নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনবে। পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে এবং কৃষিসহ সংবেদনশীল বাজার খুলে দেবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের উল্লেখ করা অন্যান্য শর্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি বাড়তে পারে, তবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। কারণ ২০২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য আমদানি ছিল ৭২০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ওই অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৯৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। পীযূষ গয়াল জানান, আগামী ৩ু৪ দিনের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবে, যেখানে বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হবে। এরপর ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবে এবং তখন ভারতে প্রবেশ করা মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্কছাড় কার্যকর হবে। চুক্তির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না করায় ভারত সরকার বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, শুল্ক ইস্যুতে সরকার আপস করেছে। এদিকে গত বছর আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ ডুয়াল সুইচের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জন নিহত হন।

Tag :
About Author Information

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

বোয়িং থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ কেনার জন্য তৈরি ভারত

Update Time : ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামপ্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দেশটির উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্ডার দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এতে ভারতুযুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সমপ্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পীযূষ গয়াল জানান, এখনো বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের উড়োজাহাজের চাহিদা প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সমান। এর সঙ্গে ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ খাতে ভারতের আমদানি ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সিএনবিসি খবর প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সামপ্রতিক সমঝোতায় নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনবে। পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে এবং কৃষিসহ সংবেদনশীল বাজার খুলে দেবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের উল্লেখ করা অন্যান্য শর্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি বাড়তে পারে, তবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। কারণ ২০২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য আমদানি ছিল ৭২০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ওই অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৯৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। পীযূষ গয়াল জানান, আগামী ৩ু৪ দিনের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবে, যেখানে বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হবে। এরপর ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবে এবং তখন ভারতে প্রবেশ করা মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্কছাড় কার্যকর হবে। চুক্তির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না করায় ভারত সরকার বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, শুল্ক ইস্যুতে সরকার আপস করেছে। এদিকে গত বছর আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ ডুয়াল সুইচের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জন নিহত হন।