1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

‎প্রধানমন্ত্রীর নদী-খাল খনন প্রকল্পে শিবসা নদী অন্তর্ভুক্তির দাবি: ভরাট হয়ে শিবসা নদী আজ শুধুই স্মৃতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): একসময়ের  ঐতিহ্যবাহী শিবসা নদী আজ নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায়। পলি জমে নদীর বুক ভরাট হয়ে যাওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই অঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশ। এই পরিস্থিতিতে শিবসা নদীকে বাঁচাতে এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে নদীটিকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক নদী-খাল খনন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীটি পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলার মধ্যে প্রাকৃতিক সীমানা সৃষ্টি করেছে। একসময় খরস্রোতা ও নাব্য এ নদীতে দিন-রাত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করলেও বর্তমানে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ভয়াবহভাবে ভরাট হয়ে পড়েছে।দক্ষিণঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল শিবসা নদী। একটা সময় এই নদীতে চলত বড় বড় পণ্যবাহী নৌকা ,লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রলার।  কিন্তু দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পলি, সংস্কারের অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীটি ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় সামান্য পানি থাকলেও, ভাটার সময় নদীটি ধুধু বালুচরে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আক্ষেপ যে শিবসার বুক চিরে একসময় বড় বড় লঞ্চ চলত, আজ তা শুধুই স্মৃতি।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে শিবসা নদী পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসলেও বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এতে নদীটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং নৌ-যোগাযোগও  বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও আশাশুনি উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ছিল এই শিবসা নদী।নদীটি নাব্যতা হারানোয় বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-যোগাযোগ, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। পণ্য পরিবহনে খরচ ও সময় দুই-ই বেড়েছে।

‎নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার জেলে ও মাঝি আজ বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের এখন একটাই দাবি শিবসা নদীকে বাঁচাতে হবে। তাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো খনন কাজে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না।স্থানীয় বাসিন্দারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, দেশের অন্যান্য বড় বড় নদী ও খালের মতো শিবসা নদীকেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নদী-খাল খনন প্রকল্পের আওতায় আনা হোক। পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।শিবসা নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের জীবনরেখা। নদীটি পুরোপুরি মরে গেলে পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটবে, তা অপূরণীয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। স্থানীয়  পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবির সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, শিবসা নদীকে পুনরায় সচল করা গেলে তা শুধু নৌ-যোগাযোগেরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং  সুনীল অর্থনীতিতে এক বিশাল অবদান রাখবে।

‎শিবসা  নদী বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় শিবসা নদীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।‎তিনি বলেন, শিবসা নদী পুনঃখনন করা হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে, জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের নৌ-যোগাযোগ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শিবসা নদী পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী নদীকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd