Dhaka ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র নারী ও শিশুবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে হবে”—বাগেরহাট জেলা প্রশাসক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩৫ Time View

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে “জেন্ডার-সংবেদনশীল জরুরি আশ্রয় ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক এক সংলাপে
জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেছেন, “প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র নারী ও
শিশুবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে হবে।” বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) সকালে শহরের
ধানসিরি হোটেল মিলনায়তনে এ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজনে,
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত
সংলাপে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।  সভাপতিত্ব করেন
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মন্জুরুল হাসান মিলন।
এ সময় অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএম
মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা
সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী ইদ্রিস
আলম, সাংবাদিক ইয়ামিন আলী ও সৈয়দ শওকত হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা
প্রায়ই ঘটে, যেখানে নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অধিকাংশ
সাইক্লোন শেল্টার এখনো নারী ও শিশুদের উপযোগী নয়—পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ
শৌচাগার, গোপনীয়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে
দুর্যোগের সময় নারীরা নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হন।

সংলাপে বক্তারা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে আশ্রয়কেন্দ্রে
আলাদা ও নিরাপদ স্থান, নারী স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, মহিলা
হেল্প ডেস্ক স্থাপন, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের
সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
কমিটিগুলোতে যুব নারী ও পুরুষ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

যুব প্রতিনিধিরা প্রস্তাব করেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আলোকসজ্জা ও
স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা, GBV প্রতিরোধে কমিউনিটি সচেতনতা
কার্যক্রম, ২৪ ঘণ্টার তথ্য ও সহায়তা হেল্পলাইন, দ্রুত রিপোর্টিং ব্যবস্থা
এবং প্রশিক্ষিত যুব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন জরুরি।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, যুব সমাজ ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত
উদ্যোগে একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল, নিরাপদ ও মানবিক আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে উঠবে,
যেখানে দুর্যোগকালেও সকলের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র নারী ও শিশুবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে হবে”—বাগেরহাট জেলা প্রশাসক

Update Time : ১২:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে “জেন্ডার-সংবেদনশীল জরুরি আশ্রয় ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক এক সংলাপে
জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেছেন, “প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র নারী ও
শিশুবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে হবে।” বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) সকালে শহরের
ধানসিরি হোটেল মিলনায়তনে এ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজনে,
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত
সংলাপে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।  সভাপতিত্ব করেন
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মন্জুরুল হাসান মিলন।
এ সময় অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএম
মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা
সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী ইদ্রিস
আলম, সাংবাদিক ইয়ামিন আলী ও সৈয়দ শওকত হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা
প্রায়ই ঘটে, যেখানে নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অধিকাংশ
সাইক্লোন শেল্টার এখনো নারী ও শিশুদের উপযোগী নয়—পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ
শৌচাগার, গোপনীয়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে
দুর্যোগের সময় নারীরা নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হন।

সংলাপে বক্তারা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে আশ্রয়কেন্দ্রে
আলাদা ও নিরাপদ স্থান, নারী স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, মহিলা
হেল্প ডেস্ক স্থাপন, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের
সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
কমিটিগুলোতে যুব নারী ও পুরুষ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

যুব প্রতিনিধিরা প্রস্তাব করেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আলোকসজ্জা ও
স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা, GBV প্রতিরোধে কমিউনিটি সচেতনতা
কার্যক্রম, ২৪ ঘণ্টার তথ্য ও সহায়তা হেল্পলাইন, দ্রুত রিপোর্টিং ব্যবস্থা
এবং প্রশিক্ষিত যুব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন জরুরি।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, যুব সমাজ ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত
উদ্যোগে একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল, নিরাপদ ও মানবিক আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে উঠবে,
যেখানে দুর্যোগকালেও সকলের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।