Dhaka ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়নে ওয়াশিংটনের সম্মতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬ Time View

বিদেশ : পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের নোটিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদন পেয়েছে। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এফ-১৬ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসকে জানানো হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে কোনো আপত্তি না উঠলে এমন বিক্রয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে ধরা হয়। এই ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি ওঠেনি, তাই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) পাকিস্তানের অনুরোধে এই ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্যাকেজ অনুমোদন দেয়। এতে এফ-১৬ বিমানের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানির নিয়মের অংশ। সাধারণত এমন চুক্তিতে ক্রেতা দেশ নিজস্ব অর্থ বা আগে অনুমোদিত মার্কিন ঋণ বা সহায়তা ব্যবহার করে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিফিকেশন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ব্লক-৫২ ও মিডলাইফ আপগ্রেডকৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকাল ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাড়াতে এই আপগ্রেড প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বজায় রাখা। এই প্যাকেজের মোট মূল্য ৬৮৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য। বাকি ৬৪৯ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন সেবায়। প্যাকেজে রয়েছে ৯২টি লিংক-১৬ ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিংক সিস্টেম এবং সংযোজন ও পরীক্ষার জন্য ছয়টি নিষ্ক্রিয় এমকে-৮২ (৫০০ পাউন্ড) বোমা বডি। এ ছাড়া এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অ্যাভিওনিঙ্ আপগ্রেড, নিরাপদ যোগাযোগ ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি, ক্রিপ্টোগ্রাফিক ডিভাইস, মিশন পরিকল্পনার সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পরিবর্তন। পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, গোলাবারুদ পরীক্ষা ও পুনঃপ্রোগ্রামিং সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও এই প্যাকেজের অংশ। সংবেদনশীল উপকরণের মধ্যে রয়েছে মোড-৫ আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ডুঅর-ফো (আইএফএফ) সিস্টেম, হাতে বহনযোগ্য কি লোডার এবং গোলাবারুদের পরীক্ষার জন্য বিশেষ পুনঃপ্রোগ্রামিং সরঞ্জাম। এসবের কিছু অংশ গোপন হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তান প্রথম ২০২১-২২ সালে এফ-১৬ আপগ্রেডের জন্য আবেদন করেছিল। ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) প্রস্তাবটি সমর্থন করলেও তখন বাইডেন প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি নোটিফিকেশন জারি হলেও অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে কংগ্রেসে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না ওঠায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই আপগ্রেড বিক্রয় অনুমোদিত হয়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়নে ওয়াশিংটনের সম্মতি

Update Time : ১০:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিদেশ : পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের নোটিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদন পেয়েছে। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এফ-১৬ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসকে জানানো হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে কোনো আপত্তি না উঠলে এমন বিক্রয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে ধরা হয়। এই ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি ওঠেনি, তাই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) পাকিস্তানের অনুরোধে এই ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্যাকেজ অনুমোদন দেয়। এতে এফ-১৬ বিমানের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানির নিয়মের অংশ। সাধারণত এমন চুক্তিতে ক্রেতা দেশ নিজস্ব অর্থ বা আগে অনুমোদিত মার্কিন ঋণ বা সহায়তা ব্যবহার করে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিফিকেশন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ব্লক-৫২ ও মিডলাইফ আপগ্রেডকৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকাল ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাড়াতে এই আপগ্রেড প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বজায় রাখা। এই প্যাকেজের মোট মূল্য ৬৮৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য। বাকি ৬৪৯ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন সেবায়। প্যাকেজে রয়েছে ৯২টি লিংক-১৬ ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিংক সিস্টেম এবং সংযোজন ও পরীক্ষার জন্য ছয়টি নিষ্ক্রিয় এমকে-৮২ (৫০০ পাউন্ড) বোমা বডি। এ ছাড়া এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অ্যাভিওনিঙ্ আপগ্রেড, নিরাপদ যোগাযোগ ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি, ক্রিপ্টোগ্রাফিক ডিভাইস, মিশন পরিকল্পনার সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পরিবর্তন। পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, গোলাবারুদ পরীক্ষা ও পুনঃপ্রোগ্রামিং সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও এই প্যাকেজের অংশ। সংবেদনশীল উপকরণের মধ্যে রয়েছে মোড-৫ আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ডুঅর-ফো (আইএফএফ) সিস্টেম, হাতে বহনযোগ্য কি লোডার এবং গোলাবারুদের পরীক্ষার জন্য বিশেষ পুনঃপ্রোগ্রামিং সরঞ্জাম। এসবের কিছু অংশ গোপন হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তান প্রথম ২০২১-২২ সালে এফ-১৬ আপগ্রেডের জন্য আবেদন করেছিল। ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) প্রস্তাবটি সমর্থন করলেও তখন বাইডেন প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি নোটিফিকেশন জারি হলেও অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে কংগ্রেসে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না ওঠায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই আপগ্রেড বিক্রয় অনুমোদিত হয়।