Dhaka ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১১৩ Time View

দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন ব্যাংক গঠিত হবে, সেগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। তবে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত মামলার কারণে আপাতত এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বেইল-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানত মূলধনে রূপান্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার নিজে মূলধন হিসেবে প্রদান করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংকটি প্রথমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকবে এবং অর্থ বিভাগের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে ধীরে ধীরে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “আমরা আশা করছি, পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকটি বেসরকারিখাতে দেওয়া সম্ভব হবে।”

সরকার আশ্বাস দিয়েছে, একীভূত হওয়ার কারণে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হবেন না এবং কোনো গ্রাহকের আমানতও হারাবে না। পাশাপাশি ব্যাংক ও বীমা খাতে আমানত সুরক্ষা আইনকে যুগোপযোগী করে সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে আহ্বায়ক করে গঠিত আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি ইতোমধ্যে একীভূত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা কাঠামো মোকাবিলায় এই একীভূতকরণ পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হচ্ছে

Update Time : ১২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন ব্যাংক গঠিত হবে, সেগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। তবে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত মামলার কারণে আপাতত এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বেইল-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানত মূলধনে রূপান্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার নিজে মূলধন হিসেবে প্রদান করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংকটি প্রথমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকবে এবং অর্থ বিভাগের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে ধীরে ধীরে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “আমরা আশা করছি, পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকটি বেসরকারিখাতে দেওয়া সম্ভব হবে।”

সরকার আশ্বাস দিয়েছে, একীভূত হওয়ার কারণে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হবেন না এবং কোনো গ্রাহকের আমানতও হারাবে না। পাশাপাশি ব্যাংক ও বীমা খাতে আমানত সুরক্ষা আইনকে যুগোপযোগী করে সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে আহ্বায়ক করে গঠিত আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি ইতোমধ্যে একীভূত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা কাঠামো মোকাবিলায় এই একীভূতকরণ পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।