Dhaka ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি প্রচারে ড্রোন নিষিদ্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৩৫ Time View

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের সময় ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন নতুন আচরণবিধি প্রস্তুত করেছে এবং তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আচরণবিধিতে যেসব নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো আরপিওর মধ্যেও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের সাইবার বুলিং রোধে ব্যবস্থা, বিদেশে প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচার নিষিদ্ধকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচার চালালে শাস্তির বিধান।

এবারের প্রচারণায় পোস্টার থাকবে না। একজন প্রার্থী এক আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার আয়তন হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট। তবে ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসি কমিশনার জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মনোভাব নিয়েছে কমিশন। দলগুলো যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে, তার তালিকা ও লিংক রিটার্নিং অফিসারকে সরবরাহ করতে হবে।

ভোটার স্লিপ বিতরণের প্রথাকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক বা পদের উল্লেখ থাকবে না। ভোটের দিন ও প্রচারণাকালে কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষ থেকে ড্রোন বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পলিথিন বা রেকসিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। প্রচারের মেয়াদ তিন সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও এবার আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমের সংলাপ এবং প্রার্থীদের এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার ব্যবস্থাও থাকবে। রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীর জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন, যাতে তারা একই দিনে নিজেদের ইশতেহার পাঠ করতে পারেন।

এছাড়া সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে তারাও কোনো প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

নির্বাচনি প্রচারে ড্রোন নিষিদ্ধ

Update Time : ১২:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের সময় ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন নতুন আচরণবিধি প্রস্তুত করেছে এবং তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আচরণবিধিতে যেসব নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো আরপিওর মধ্যেও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের সাইবার বুলিং রোধে ব্যবস্থা, বিদেশে প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচার নিষিদ্ধকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচার চালালে শাস্তির বিধান।

এবারের প্রচারণায় পোস্টার থাকবে না। একজন প্রার্থী এক আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার আয়তন হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট। তবে ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসি কমিশনার জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মনোভাব নিয়েছে কমিশন। দলগুলো যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে, তার তালিকা ও লিংক রিটার্নিং অফিসারকে সরবরাহ করতে হবে।

ভোটার স্লিপ বিতরণের প্রথাকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক বা পদের উল্লেখ থাকবে না। ভোটের দিন ও প্রচারণাকালে কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষ থেকে ড্রোন বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পলিথিন বা রেকসিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। প্রচারের মেয়াদ তিন সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও এবার আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমের সংলাপ এবং প্রার্থীদের এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার ব্যবস্থাও থাকবে। রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীর জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন, যাতে তারা একই দিনে নিজেদের ইশতেহার পাঠ করতে পারেন।

এছাড়া সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে তারাও কোনো প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।