Dhaka ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ Time View

বিদেশ : দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত গতকাল শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে বিচারকাজে বাধা দান এবং তার বিপর্যয়কর সামরিক আইন জারি ও পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। খবর এএফপির। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাবেক নেতার বিরুদ্ধে আদালতের এটিই প্রথম রায়। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় তার সংক্ষিপ্ত সময়ের বেসামরিক শাসন স্থগিত করার পদক্ষেপ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভসহ পার্লামেন্টে সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। ক্ষমতাচ্যুত ইউন সেই সময়কার ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ের অস্থিরতায় তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য একাধিক বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক বায়েক দায়ে-হিউন বলেন, তদন্তকারীদের কাজে বাধা দিয়ে নিজেকে আটক হতে না দেওয়ার মাধ্যমে ইউন বিচারকাজে বাধা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিচারক বায়েক বলেন, ইউন প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং তাঁদেরকে তার ‘নিজস্ব নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বার্থে’ নিয়োজিত ‘ব্যক্তিগত রক্ষী’ হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া সামরিক আইন সংক্রান্ত পরিকল্পনা সভায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাদ দেওয়ার অপরাধেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বিচারক বায়েক দায়ে-হিউন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবার ঊর্ধ্বে সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন মেনে চলার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও, আসামি তার পরিবর্তে সংবিধানকে অবজ্ঞা করার মনোভাব প্রদর্শন করেছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আসামির অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর।’ তবে প্রমাণের অভাবে সরকারি নথি জাল করার অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। ইউন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য সাত দিন সময় পাবেন। প্রসিকিউটররা ১০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন, অন্যদিকে ইউন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে থাকা ইউনের সমর্থকরা কয়েক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পরে ‘আবারও ইউন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : ০৭:৩২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত গতকাল শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে বিচারকাজে বাধা দান এবং তার বিপর্যয়কর সামরিক আইন জারি ও পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। খবর এএফপির। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাবেক নেতার বিরুদ্ধে আদালতের এটিই প্রথম রায়। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় তার সংক্ষিপ্ত সময়ের বেসামরিক শাসন স্থগিত করার পদক্ষেপ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভসহ পার্লামেন্টে সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। ক্ষমতাচ্যুত ইউন সেই সময়কার ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ের অস্থিরতায় তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য একাধিক বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক বায়েক দায়ে-হিউন বলেন, তদন্তকারীদের কাজে বাধা দিয়ে নিজেকে আটক হতে না দেওয়ার মাধ্যমে ইউন বিচারকাজে বাধা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিচারক বায়েক বলেন, ইউন প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং তাঁদেরকে তার ‘নিজস্ব নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বার্থে’ নিয়োজিত ‘ব্যক্তিগত রক্ষী’ হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া সামরিক আইন সংক্রান্ত পরিকল্পনা সভায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাদ দেওয়ার অপরাধেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বিচারক বায়েক দায়ে-হিউন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবার ঊর্ধ্বে সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন মেনে চলার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও, আসামি তার পরিবর্তে সংবিধানকে অবজ্ঞা করার মনোভাব প্রদর্শন করেছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আসামির অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর।’ তবে প্রমাণের অভাবে সরকারি নথি জাল করার অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। ইউন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য সাত দিন সময় পাবেন। প্রসিকিউটররা ১০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন, অন্যদিকে ইউন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে থাকা ইউনের সমর্থকরা কয়েক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পরে ‘আবারও ইউন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।