Dhaka ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ১১৮ Time View

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭৯১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও চারজন। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৯ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকায়। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগে ১৩৯ জন, চট্টগ্রামে ১১৪ জন, খুলনায় ৫৩ জন, রাজশাহীতে ৬৩ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে দুজন ভর্তি হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন রাজশাহী বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯১ জন। চলতি বছরে মোট ৫৭ হাজার ৭০২ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের। জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯, জুলাইয়ে ৪১, আগস্টে ৩৯, সেপ্টেম্বরে ৭৬ এবং চলতি অক্টোবরের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত মশকনিধন কর্মসূচির কারণে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। বাংলাদেশে এ সময়টিতে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। তারা বলছেন, “যদি এখনই স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না বাড়ানো হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পুরনো টায়ার বা খোলা পানির পাত্রে যেন কোনোভাবে পানি জমে না থাকে। এসব স্থানেই সাধারণত এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং সংক্রমণ ছড়ায়।

গত বছরের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও সংক্রমণের বিস্তার দেশের প্রায় সব বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছর (২০২৩) সারাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার ৭০৫ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

Update Time : ১২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭৯১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও চারজন। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৯ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকায়। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগে ১৩৯ জন, চট্টগ্রামে ১১৪ জন, খুলনায় ৫৩ জন, রাজশাহীতে ৬৩ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে দুজন ভর্তি হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন রাজশাহী বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯১ জন। চলতি বছরে মোট ৫৭ হাজার ৭০২ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের। জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯, জুলাইয়ে ৪১, আগস্টে ৩৯, সেপ্টেম্বরে ৭৬ এবং চলতি অক্টোবরের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত মশকনিধন কর্মসূচির কারণে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। বাংলাদেশে এ সময়টিতে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। তারা বলছেন, “যদি এখনই স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না বাড়ানো হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পুরনো টায়ার বা খোলা পানির পাত্রে যেন কোনোভাবে পানি জমে না থাকে। এসব স্থানেই সাধারণত এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং সংক্রমণ ছড়ায়।

গত বছরের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও সংক্রমণের বিস্তার দেশের প্রায় সব বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছর (২০২৩) সারাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার ৭০৫ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি।