1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

খোলামেলা ছবি নিয়ে মুখ খুললেন নেহা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিনোদন: তাদের পাখির চোখ দেখতে পায়, সাগর-পাহাড়ের কোলে সাদা কম্ফোর্টারে কমফোর্টেবল অর্ধাবৃত অভিনেত্রী। অনাবৃত অংশ আলো ছায়ার দখলে। কোনো ছবিতে পাপড়ি ছড়ানো গোলাপের মতো মেলে ধরেছেন নিজেকে। কোনোটায় উন্মুক্ত মেরুদণ্ড ছুঁয়ে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে দীর্ঘ ট্যাটু। কখনও সলজ্জ চাহনি। কোনো ফ্রেমে হাসছেন ঝরনার মতো। রোদ যেন তার দস্যু প্রেমিক! পট হাউসের কাঁচের দেয়াল মাঝখানে রেখে একপাশে সতেজ প্রকৃতি অন্যপাশে নেহার সতেজ সৌন্দর্য যেন শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরে ব্যস্ত! শৈল্পিক সে ফ্রেমগুলোর ক্যাপশনে নেহা লেখেন, ‘যেখানে আলোর রেশ থেকে যায়, সেখানে আমি ভাষা হয়ে উঠি।’ এবার ছবিগুলোর পেছনের গল্প শোনালেন তিনি। ছয়-সাত মাস আগে নেহার হঠাৎ মনে হয় প্রকৃতির কাছে দিনে দিনে বাড়িয়াছে দেনা। শুধিতে হইবে ঋণ। ছুটে যান সাগরে। এরপর নেহার ভাষায় শোনা যাক, ‘ছবিগুলো ছয় সাত মাস আগে তোলা। হঠাৎ মনে হচ্ছিল আমার সাগরে যাওয়া উচিত। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো দরকার। গেলাম কঙ্বাজার। নিরিবিলি জায়গা খুঁজছিলাম যেখানে প্রকৃতি ঘেঁষে নিজের মতো করে থাকা যাবে। কাঁচে ঘেরা পট হাউসটি পেয়ে যাই। একপাশে তার সমুদ্র অন্যপাশে পাহাড়। বৃষ্টি হচ্ছিল। গান শুনে সময় কাটছিল। ছয়-সাতদিন এভাবে যাওয়ায় বিরক্তি চেপে বসে। হঠাৎ মনে হলো ছবি তুলি। সঙ্গে শিফা নামে আমার এক ছোটবোন ছিল। সে আলোকচিত্রী। ওকে বললাম, চল ব্যতিক্রম কিছু করি।’ চারুকলা থেকে বের হওয়া নেহার ক্যানভাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশ। ফ্রেম তৈরিতে সেটি কাজে দিল। পোর্ট্রেট আঁকার দৃশ্যে কল্পনার চোখ বুলিয়ে ফ্রেম দেখিয়ে দিলেন ভ্রমণসঙ্গীকে। তার কথায়, ‘ক্যানভাসে নিজের পোর্ট্রেট কীভাবে আঁকতাম সেটা কল্পনা করে শিফাকে বসিয়ে দুই-একটি ফ্রেম দেখিয়ে দিলাম। এরপর বললাম, প্লে ইউথ মি। শুরু হলো ক্লিক ক্লিক। দেড় ঘণ্টার মতো অনবরত চলল। শিফা আমার ছোটবোন। তাই স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলাম। আমি কি প্রপারলি কাভারড আপ আছি, কোনো চোখ কি আমাকে অন্যভাবে দেখছে- মাথায় আসেনি। কারণ ওই ঘরে তিন জোড়া চোখ ছিল। একজোড়া আমার, একজোড়া ছোট বোনের এবং আরেক জোড়া ক্যামেরার। যেটা আমার ও শিফার কন্ট্রোলে। আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো ক্যামেরা ছিল না। এভাবেই ছবিগুলো ক্রিয়েট হয়। আমি দেখে তো থ, ওয়াও এত সুন্দর!’
ছবিগুলো সোশ্যাল হ্যান্ডেলে প্রকাশের কথা ভাবতেই সিন্দাবাদের ভূত হয়ে অভিনেত্রীর কাঁধে চেপে বসে রাজ্যের দ্বিধা। ছয়-সাত মাসেও সরানো যায়নি তাকে। তার মুখেই শোনা যাক, ‘ছবিগুলো ছয় থেকে সাত মাস আগের। এতদিন এসব ভেবেই প্রকাশ করিনি। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। পাবলিশ করব কি করব না ভাবছিলাম। হঠাৎ সেদিন মনে হলো ছবিগুলো দিচ্ছি না কেন। তাছাড়া অনেকে ফোন করে বলছিলেন, তুমি কি হারিয়ে গেছ? কাজটাজ করছ না? আমিও শেষ ছবি দিয়েছিলাম অনেক আগে। আগে ছবি দিতে ভালোবাসতাম। জীবনে এতকিছু ঘটেছে যে নিজেকে আর ভালোবাসছিলাম না। কিন্তু এই ছবিগুলোতে নিজেকে যতবার দেখছি ততবার মোহিত হয়েছি। নিজের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে। তাহলে ভালোবাসাটা প্রকাশ করছি না কেন- ভাবনা থেকে প্রকাশ করি।’ পরের ধাপটি সহজ ছিল না। পরিবার কথা শুনিয়েছে। ধেয়ে এসেছে কটাক্ষ। যে যার মতো ব্যবচ্ছেদ করেছে। অভিনেত্রী বলেন, ‘এজন্য পরিবার থেকেও অনেক কিছু শুনতে হয়েছে। তাদের কেউ কেউ আমাকে নেতিবাচক মন্তব্যগুলো পড়ে শুনিয়েছে। আমি জানি মানুষ আমাকে এতদিন যেভাবে দেখেছে এখন সেভাবে দেখছে না। আমাদের মূল্য এতটাই কম যে ছবিগুলোর কারণে মানুষের কাছে আমার পুরো মোটো চেঞ্জ হয়ে গেছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। কিছু না জেনেই তারা আমার পরিবার, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্ম, নৈতিকতা নিয়ে কথা বলছে।’ পিছু লোকের অনেক কথায় কান দিচ্ছেন না ‘হাঁসের সালুন’-এর অভিনেত্রী। বললেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেকে নিজেদের মাথায় অনেক গল্প দেখতে পাচ্ছে। আমি যদি মানুষকে দশভাবে দশটা গল্প ভাবাতে পারি অসুবিধা নেই। তাদের ভাবনায় তো আমার জীবন বদলে যাবে না। যে যা বলছে বলুক। কেউ গালি দিলেও রেসপেক্ট করব। তাদের উদ্দেশে বলব, আমি যেভাবে তাদের প্রতিটি জিনিসকে রেসপেক্ট দিচ্ছি তারাও আমার পার্সপেক্টিভকে সেভাবে রেসপেক্ট দেবে। কেউ যদি অন্যভাবে নিতে চায় তাহলে ভাবব তার মাথায় সমস্যা।’ নেহার কাছে ছবিগুলো একেকটি আর্টওয়ার্ক। যেখানে তিনি উপকরণ মাত্র। তার ধারণা শিল্প সচেতনরাও এভাবেই ভাবছেন। বললেন, ‘আমার কাছে একেকটি ছবি একেকটি গল্প। আমি একটি সাবজেক্ট মাত্র। আমি ছাড়াও আরও অনেক সাবজেক্ট রয়েছে। শরীরের বাক, ত্বক, কোমল-কাঠিন্যের তফাৎ, আলোছায়া মিলিয়ে দারুণ ক্রিয়েশন। আমি মনে করি না ছবিগুলোতে নারী শরীর দেখানো হয়েছে বলেই মানুষের ভালো লাগবে। ১০ শতাংশ দর্শক হলেও আছেন যারা প্রথমে খেয়ালই করেননি আমার শরীর অর্ধাবৃত। শৈল্পিক লেগেছে বলেই চোখ আটকেছে। তারপর যখন খুঁটিয়ে দেখেছেন তখন অনেককিছু চোখে পড়েছে। আমিও ওই চিন্তাভাবনা থেকেই দিয়েছি।’ যেতে যেতে নেহা জানালেন দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় তার। ‘নীল জোসনা’য় কলকাতার পাওলি দামের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। পূজায় আসতে পারে। ‘কালো বিড়াল’ও পোস্ট প্রডাকশনে। চলতি বছরই পরিচালকের চোখ নিয়ে ক্যামেরার পেছনে দাঁড়াবেন। নির্মাণ করবেন খুদে সিনেমা। আপাতত চিত্রনাট্যে সময় দিচ্ছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd