Dhaka ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২৭

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪ Time View

বিদেশ : কলম্বিয়ার আমাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারে প্রদেশে দুটি শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত রোববার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এল রেতর্নো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং কলম্বিয়ার ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে এই সংঘাত দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও অস্থির করে তুলেছে। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষ মূলত রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অফ কলম্বিয়ার (ফার্ক) দুটি বিবাদমান উপদলের মধ্যে হয়েছে। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি নেস্টর গ্রেগরিও ভেরা ওরফে ইভান মরডিস্কো এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজা ওরফে ক্যালারকা কর্ডোবা। এই দুটি গোষ্ঠী এক সময় একই সংগঠনের অংশ থাকলেও গত বছরের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে আলাদা হয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত ২৭ জনই মরডিস্কোর নেতৃত্বাধীন উপদলের সদস্য বলে সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজার উপদলটি বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইভান মরডিস্কোর গোষ্ঠী সরকারি যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো পেট্রোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রতি নমনীয়তার অভিযোগ তোলায় তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছেন। গত নভেম্বরেও সরকারি বাহিনীর অভিযানে মরডিস্কোর ১৯ জন অনুসারী নিহত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেট্রো পলাতক এই বিদ্রোহী নেতাকে কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কলম্বিয়ার এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এমন এক সময়ে তীব্র হলো যখন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গুস্তাভো পেট্রোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও সমপ্রতি ট্রাম্প ও পেট্রো মাদক পাচার রোধে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়ে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছেন, তবে কলম্বিয়ার বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইএলএন মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ছয় দশক ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে কলম্বিয়ায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

কলম্বিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২৭

Update Time : ১০:৩১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : কলম্বিয়ার আমাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারে প্রদেশে দুটি শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত রোববার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এল রেতর্নো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং কলম্বিয়ার ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে এই সংঘাত দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও অস্থির করে তুলেছে। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষ মূলত রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অফ কলম্বিয়ার (ফার্ক) দুটি বিবাদমান উপদলের মধ্যে হয়েছে। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি নেস্টর গ্রেগরিও ভেরা ওরফে ইভান মরডিস্কো এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজা ওরফে ক্যালারকা কর্ডোবা। এই দুটি গোষ্ঠী এক সময় একই সংগঠনের অংশ থাকলেও গত বছরের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে আলাদা হয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত ২৭ জনই মরডিস্কোর নেতৃত্বাধীন উপদলের সদস্য বলে সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজার উপদলটি বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইভান মরডিস্কোর গোষ্ঠী সরকারি যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো পেট্রোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রতি নমনীয়তার অভিযোগ তোলায় তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছেন। গত নভেম্বরেও সরকারি বাহিনীর অভিযানে মরডিস্কোর ১৯ জন অনুসারী নিহত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেট্রো পলাতক এই বিদ্রোহী নেতাকে কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কলম্বিয়ার এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এমন এক সময়ে তীব্র হলো যখন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গুস্তাভো পেট্রোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও সমপ্রতি ট্রাম্প ও পেট্রো মাদক পাচার রোধে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়ে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছেন, তবে কলম্বিয়ার বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইএলএন মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ছয় দশক ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে কলম্বিয়ায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা