Dhaka ০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক, আটকে আছেন আরও অনেকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ Time View

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোলটান খনি ধসে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় এই দুর্ঘটনায় খনি শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছেন। বর্ষাকালে নরম হয়ে যাওয়া মাটি হঠাৎ ধসে পড়ায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

রয়টার্স জানায়, নর্থ কিভু প্রদেশে বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জানান, এই ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে খনির ভেতরে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এই দুর্ঘটনা ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি)। রুবায়া খনিটি রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় মাটি অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে বলে জানান মুইসা। তার ভাষায়, “এটি বর্ষাকাল। মাটি নরম ছিল। ভুক্তভোগীরা গর্তের ভেতরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে।”

এএফপি জানায়, নর্থ কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নর ইরাস্তোঁ বাহাতি মুসাঙ্গা শুক্রবার কিছু মরদেহ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি হতাহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। প্রদেশের গভর্নরের এক উপদেষ্টা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন।

রুবায়া খনিতে কাজ করা এক ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক ফ্রাংক বোলিঙ্গো এএফপিকে বলেন, “বৃষ্টির পর হঠাৎ ভূমিধস নামে। অনেক মানুষ জীবিত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েছে, আর কেউ কেউ এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছে।”

বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় রুবায়া খনি থেকে। এই কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান উপাদান ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপ-সহনশীল ধাতু। রয়টার্স বলছে, খনিটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয়রা এখানে দৈনিক কয়েক ডলারের বিনিময়ে হাতে খননকাজ করেন।

জাতিসংঘের অভিযোগ, এএফসি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দিচ্ছে। এই গোষ্ঠীটি প্রতিবেশী রুয়ান্ডার সমর্থন পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কিগালি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশাল খনিজ সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ডিআর কঙ্গোর বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতিদিন ২ দশমিক ১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে। সেই বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ খনিতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন বহু মানুষ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক, আটকে আছেন আরও অনেকে

Update Time : ১১:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোলটান খনি ধসে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় এই দুর্ঘটনায় খনি শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছেন। বর্ষাকালে নরম হয়ে যাওয়া মাটি হঠাৎ ধসে পড়ায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

রয়টার্স জানায়, নর্থ কিভু প্রদেশে বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জানান, এই ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে খনির ভেতরে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এই দুর্ঘটনা ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি)। রুবায়া খনিটি রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় মাটি অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে বলে জানান মুইসা। তার ভাষায়, “এটি বর্ষাকাল। মাটি নরম ছিল। ভুক্তভোগীরা গর্তের ভেতরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে।”

এএফপি জানায়, নর্থ কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নর ইরাস্তোঁ বাহাতি মুসাঙ্গা শুক্রবার কিছু মরদেহ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি হতাহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। প্রদেশের গভর্নরের এক উপদেষ্টা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন।

রুবায়া খনিতে কাজ করা এক ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক ফ্রাংক বোলিঙ্গো এএফপিকে বলেন, “বৃষ্টির পর হঠাৎ ভূমিধস নামে। অনেক মানুষ জীবিত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েছে, আর কেউ কেউ এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছে।”

বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় রুবায়া খনি থেকে। এই কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান উপাদান ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপ-সহনশীল ধাতু। রয়টার্স বলছে, খনিটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয়রা এখানে দৈনিক কয়েক ডলারের বিনিময়ে হাতে খননকাজ করেন।

জাতিসংঘের অভিযোগ, এএফসি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দিচ্ছে। এই গোষ্ঠীটি প্রতিবেশী রুয়ান্ডার সমর্থন পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কিগালি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশাল খনিজ সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ডিআর কঙ্গোর বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতিদিন ২ দশমিক ১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে। সেই বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ খনিতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন বহু মানুষ।