Dhaka ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদির মৃত্যুতে পালিত হচ্ছে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ Time View

জুলাই গণআন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি থেকে বেসরকারি সব ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। শোকের আবহে একই দিনে রাজধানীতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত আসে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে। সেদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন। এরপর একই রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধার মৃত্যুতে সরকার গভীরভাবে শোকাহত।

রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও সচিবালয়ের নতুন নির্মিত এক নম্বর ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পতাকা অর্ধনমিত দেখা গেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও একই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। মরদেহ রাখা হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ওসমান হাদির মৃত্যুতে পালিত হচ্ছে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

Update Time : ০৭:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণআন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি থেকে বেসরকারি সব ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। শোকের আবহে একই দিনে রাজধানীতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত আসে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে। সেদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন। এরপর একই রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধার মৃত্যুতে সরকার গভীরভাবে শোকাহত।

রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও সচিবালয়ের নতুন নির্মিত এক নম্বর ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পতাকা অর্ধনমিত দেখা গেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও একই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। মরদেহ রাখা হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।