Dhaka ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৭ Time View

বিদেশ : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। খবর বিবিসির। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি ফাঁসি দেয়, তবে এমন কিছু ঘটবে যা কেউ কল্পনাও করেনি। আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক বিকল্পের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৮ হাজার ৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেনগাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামক এক যুবককে মাত্র দুই দিনের বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা গতকাল বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা। সংস্থাটি একে ‘ভয় ছড়ানোর কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারের ফুটেজে অন্তত ১৮০টি কাফন পরা মরদেহ স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। পর্যাপ্ত রক্ত ও চিকিৎসার সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। দেশটির ১৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান ধর্মীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘কঠোরভাবে’ মোকাবিলা করা হবে। কিছু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’র অভিযোগ আনা হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দ্রুত বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Update Time : ১১:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। খবর বিবিসির। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি ফাঁসি দেয়, তবে এমন কিছু ঘটবে যা কেউ কল্পনাও করেনি। আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক বিকল্পের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৮ হাজার ৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেনগাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামক এক যুবককে মাত্র দুই দিনের বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা গতকাল বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা। সংস্থাটি একে ‘ভয় ছড়ানোর কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারের ফুটেজে অন্তত ১৮০টি কাফন পরা মরদেহ স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। পর্যাপ্ত রক্ত ও চিকিৎসার সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। দেশটির ১৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান ধর্মীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘কঠোরভাবে’ মোকাবিলা করা হবে। কিছু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’র অভিযোগ আনা হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দ্রুত বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।