ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোরেলগঞ্জে ভারী বর্ষণে কর্তনকৃত বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেদী হাসান লিপন,মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভারী বর্ষণে কর্তনকৃত শত শত বিঘা বোরো ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হওয়ায় চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কর্তনকৃত মাঠের ধান ঘরে তুলতে অতিরিক্ত
টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।সরেজমিনে জানা গেছে , উপজেলার রামচন্দ্রপুর, দৈবজ্ঞহাটী, বনগ্রাম, হোগালপাশা,
বলইবুনিয়া, পুটিখালী, খাউলিয়া, জিউধরা, নিশানবাড়িয়া , মোরেলগঞ্জ সদর ও পৌরসভার ৮
হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে
রামচন্দ্রপর ইউনিয়নের ১৫শ’ ১০ হেক্টর ও দৈবজ্ঞহাটীতে ৫শ হেক্টর জমিতে। আর মাত্র ২ সপ্তাহের পরেই
তাদের ফসল ঘরে নেয়ার পালা। মাঠের পর মাঠ জুড়ে চলছে পাকা বোরো ধান কর্তন । সেই
মূহুর্তে বৈরী আবহাওয়া ভারী বর্ষনের ফলে চাষীদের অধিকাংশ কর্তনকৃত বোরো ধান এখন
পানির নিচে নিমজ্জিতহয়ে গেছে। পানির মধ্যে থেকে কর্তনকৃত ধানের আটি তুলে অনেকে
সড়কের পাশে শুকানোর চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ মারাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোকা গ্রামের কৃষানী আফরোজা বেগম, রুমা বেগম, সাইফুল ইসলাম পলাশ, জামাল শেখ
সহ ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক চাষি জানান, টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। পানির নিচে ভিজে
থাকা শত শত মন ধান এরকম আর দু একদিন থাকলেই ধানে ফুটবে বীজ। ক্ষতিগ্রস্থ এসব চাষীরা
বলেন, এমনিতেই বাজারে ধানের দাম রয়েছে কম। তার উপর এধরনের ক্ষতি । যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
গত বছরে যেখানে ১২শ থেকে ১৪শ টাকায় মন বিক্রী হত এবারে ৭৫০ টাকায় প্রতি মন ধান
কিনছেন বেপরীরা। ভিজে থাকা ধানের নেই কোন চাহিদা। শ্রমিক, সার, কীটনাসক সহ
জমিতে যে টাকা ব্যায় হয়েছে আসল টাকা তুলতে হিম সিম খেতে হবে। এরকম বৈরী আবহাওয়া
আরো দু একদিন থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা দুষ্কর হয়ে দাড়াবে। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের
কচুবুনিয়া গ্রামের চাষী বাচ্চু শেখ ও খলিল শেখ বলেন ৬ বিঘা জমিতে ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে
বসে আছি। ফসল ও মোটামুটি ভালো হয়েছে। ধান রোপনের পরেই ধানের পাতা ঝলসানো রোগ ও
কারেন্ট পোকার আক্রমনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আবার ভারি বর্ষনে অনেকটা ক্ষতির মুখে
পড়েছি।দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, জোঁকা, বেতকাশি,
মিত্রডাঙ্গা, গাজীরঘাট ও খালকুলিয়া ব্লকে প্রায় ৩/৪ হাজার কৃষক প্রতি বছরই এ বোরো চাষ
করে থাকে। ফসল ও ভালো হয়েছে। ভারি বর্ষনের ফলে কিছু কিছু ফসলি মাঠে পানি জমে থাকায়
সাময়িক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষক। তবে কর্তনকৃত বোরো ৫০ ভাগ ফসল ইতি মধ্যে
চাষীরা ঘরে তুলে ফেলেছেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সার্বক্ষনিক
চাষীদের মাঠ পর্যায়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া এরকম আজকের মত ভালো থাকলে
আটকে থাকা পানি সম্পূর্ন নিষ্কেশন হয়ে যাবে তেমন বড় ধরনের ক্ষতি সন্মুখিন হবে না
কৃষক। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব মন্ডল বলেন, তার ইউনিয়নে
বলেশ্বর নদীর জোয়ার ভাটার সাথে সংযোগ হওয়ায় তেমন একটা পানি আটকে থাকতে পারছে না।
যে কারনে বোরো চাষীদের তেমন ক্ষতি হবে না। কারেন্ট পোকা ও ধানের পাতা ঝঁলসানো রোগে
আক্রান্ত হওয়ার সময় তাৎক্ষনিক চাষীদেরকে পরামর্শ দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া
হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে বোরো চাষীদের কর্তনকৃত
ধান সাময়িক সমস্যার বিষয়ে জেনে মাঠ পর্যায়ে টিম আকারে পরিদর্শন করে পানি
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে চলে এসেছে।
ইতিপূর্বে এ বৈরী আবহাওয়ার বিষয়ে চাষীদেরকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। অনেক চাষী
তা না মেনে বৃষ্টির পূর্ব মূহুর্তে ধান কাটায় তারা ধান ঘরে তুলতে পারেনি। অধিকাংশ চাষী
ফসল ঘরে নিয়েছে। তেমন একটা ক্ষতির সম্মুখীন চাষীরা হবে না।##
** ছবি দেয়্ধসঢ়;া আছে

মেহেদী হাসান লিপন
মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মোরেলগঞ্জে ভারী বর্ষণে কর্তনকৃত বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

মেহেদী হাসান লিপন,মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভারী বর্ষণে কর্তনকৃত শত শত বিঘা বোরো ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হওয়ায় চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কর্তনকৃত মাঠের ধান ঘরে তুলতে অতিরিক্ত
টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।সরেজমিনে জানা গেছে , উপজেলার রামচন্দ্রপুর, দৈবজ্ঞহাটী, বনগ্রাম, হোগালপাশা,
বলইবুনিয়া, পুটিখালী, খাউলিয়া, জিউধরা, নিশানবাড়িয়া , মোরেলগঞ্জ সদর ও পৌরসভার ৮
হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে
রামচন্দ্রপর ইউনিয়নের ১৫শ’ ১০ হেক্টর ও দৈবজ্ঞহাটীতে ৫শ হেক্টর জমিতে। আর মাত্র ২ সপ্তাহের পরেই
তাদের ফসল ঘরে নেয়ার পালা। মাঠের পর মাঠ জুড়ে চলছে পাকা বোরো ধান কর্তন । সেই
মূহুর্তে বৈরী আবহাওয়া ভারী বর্ষনের ফলে চাষীদের অধিকাংশ কর্তনকৃত বোরো ধান এখন
পানির নিচে নিমজ্জিতহয়ে গেছে। পানির মধ্যে থেকে কর্তনকৃত ধানের আটি তুলে অনেকে
সড়কের পাশে শুকানোর চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ মারাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোকা গ্রামের কৃষানী আফরোজা বেগম, রুমা বেগম, সাইফুল ইসলাম পলাশ, জামাল শেখ
সহ ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক চাষি জানান, টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। পানির নিচে ভিজে
থাকা শত শত মন ধান এরকম আর দু একদিন থাকলেই ধানে ফুটবে বীজ। ক্ষতিগ্রস্থ এসব চাষীরা
বলেন, এমনিতেই বাজারে ধানের দাম রয়েছে কম। তার উপর এধরনের ক্ষতি । যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
গত বছরে যেখানে ১২শ থেকে ১৪শ টাকায় মন বিক্রী হত এবারে ৭৫০ টাকায় প্রতি মন ধান
কিনছেন বেপরীরা। ভিজে থাকা ধানের নেই কোন চাহিদা। শ্রমিক, সার, কীটনাসক সহ
জমিতে যে টাকা ব্যায় হয়েছে আসল টাকা তুলতে হিম সিম খেতে হবে। এরকম বৈরী আবহাওয়া
আরো দু একদিন থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা দুষ্কর হয়ে দাড়াবে। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের
কচুবুনিয়া গ্রামের চাষী বাচ্চু শেখ ও খলিল শেখ বলেন ৬ বিঘা জমিতে ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে
বসে আছি। ফসল ও মোটামুটি ভালো হয়েছে। ধান রোপনের পরেই ধানের পাতা ঝলসানো রোগ ও
কারেন্ট পোকার আক্রমনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আবার ভারি বর্ষনে অনেকটা ক্ষতির মুখে
পড়েছি।দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, জোঁকা, বেতকাশি,
মিত্রডাঙ্গা, গাজীরঘাট ও খালকুলিয়া ব্লকে প্রায় ৩/৪ হাজার কৃষক প্রতি বছরই এ বোরো চাষ
করে থাকে। ফসল ও ভালো হয়েছে। ভারি বর্ষনের ফলে কিছু কিছু ফসলি মাঠে পানি জমে থাকায়
সাময়িক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষক। তবে কর্তনকৃত বোরো ৫০ ভাগ ফসল ইতি মধ্যে
চাষীরা ঘরে তুলে ফেলেছেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সার্বক্ষনিক
চাষীদের মাঠ পর্যায়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া এরকম আজকের মত ভালো থাকলে
আটকে থাকা পানি সম্পূর্ন নিষ্কেশন হয়ে যাবে তেমন বড় ধরনের ক্ষতি সন্মুখিন হবে না
কৃষক। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব মন্ডল বলেন, তার ইউনিয়নে
বলেশ্বর নদীর জোয়ার ভাটার সাথে সংযোগ হওয়ায় তেমন একটা পানি আটকে থাকতে পারছে না।
যে কারনে বোরো চাষীদের তেমন ক্ষতি হবে না। কারেন্ট পোকা ও ধানের পাতা ঝঁলসানো রোগে
আক্রান্ত হওয়ার সময় তাৎক্ষনিক চাষীদেরকে পরামর্শ দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া
হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে বোরো চাষীদের কর্তনকৃত
ধান সাময়িক সমস্যার বিষয়ে জেনে মাঠ পর্যায়ে টিম আকারে পরিদর্শন করে পানি
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে চলে এসেছে।
ইতিপূর্বে এ বৈরী আবহাওয়ার বিষয়ে চাষীদেরকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। অনেক চাষী
তা না মেনে বৃষ্টির পূর্ব মূহুর্তে ধান কাটায় তারা ধান ঘরে তুলতে পারেনি। অধিকাংশ চাষী
ফসল ঘরে নিয়েছে। তেমন একটা ক্ষতির সম্মুখীন চাষীরা হবে না।##
** ছবি দেয়্ধসঢ়;া আছে

মেহেদী হাসান লিপন
মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা