Dhaka ০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার: কিম জং উন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ Time View

বিদেশ : প্রায় ১৪ বছর ধরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় থাকা কিম জং উনকে কেউ একনায়ক, কেউ স্বৈরশাসক আবার কেউ বলেন—তার কঠোর নেতৃত্ব দেশটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। অর্থনীতি ও জনকল্যাণে তার শাসনামলের প্রকৃত অগ্রগতি স্পষ্ট না হলেও, এক বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই—পিয়ংইয়ং এখন একটি শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া পরমাণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিম জং উনের ভাষায়, ‘পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার’। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপোষে যেতে রাজি নন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরমাণু প্রকল্প এখন সম্পূর্ণতা পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্ব। কিমের মতে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রযুক্তি এখন চূড়ান্ত উৎকর্ষে পৌঁছেছে এবং সময় এসেছে নতুন পর্যায়ে যাওয়ার। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে কিম জং উন পরমাণু কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনের আগেই কিম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি নিজে উপস্থিত থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেন। সেখানে তিনি জানান, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিহতের লক্ষ্যে নির্মিত অস্ত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।’ বরাবরের মতো, এ সময় কিমের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, পরীক্ষায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে। কিম বলেন, ‘যারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানি দেয়, এই পরীক্ষার ফল তাদের জন্য গুরুতর হুমকি ও অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হবে।’ তিনি আরও স্বীকার করেন, এই উন্নত রকেট লঞ্চার তৈরি করা সহজ ছিল না, তবে এতে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫৮.৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঠিক বাইরে গিয়ে পড়ে। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসেস-এর গবেষক লি হো-রাইউং এএফপিকে বলেন, আসন্ন সম্মেলনে কিম সম্ভবত ‘পরমাণু অস্ত্রের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে’—এমন ঘোষণা দিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং মূলত ওয়াশিংটন ও সিউলকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণু সাবমেরিন নির্মাণ উদ্যোগকে কিম সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কোনো চুক্তি হয়নি। বরং সামপ্রতিক পরীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—কিম জং উন আপোষের পথে না গিয়ে আরও আগ্রাসী কৌশলের দিকেই এগোচ্ছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার: কিম জং উন

Update Time : ১১:৩৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : প্রায় ১৪ বছর ধরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় থাকা কিম জং উনকে কেউ একনায়ক, কেউ স্বৈরশাসক আবার কেউ বলেন—তার কঠোর নেতৃত্ব দেশটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। অর্থনীতি ও জনকল্যাণে তার শাসনামলের প্রকৃত অগ্রগতি স্পষ্ট না হলেও, এক বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই—পিয়ংইয়ং এখন একটি শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া পরমাণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিম জং উনের ভাষায়, ‘পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার’। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপোষে যেতে রাজি নন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরমাণু প্রকল্প এখন সম্পূর্ণতা পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্ব। কিমের মতে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রযুক্তি এখন চূড়ান্ত উৎকর্ষে পৌঁছেছে এবং সময় এসেছে নতুন পর্যায়ে যাওয়ার। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে কিম জং উন পরমাণু কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনের আগেই কিম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি নিজে উপস্থিত থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেন। সেখানে তিনি জানান, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিহতের লক্ষ্যে নির্মিত অস্ত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।’ বরাবরের মতো, এ সময় কিমের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, পরীক্ষায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে। কিম বলেন, ‘যারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানি দেয়, এই পরীক্ষার ফল তাদের জন্য গুরুতর হুমকি ও অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হবে।’ তিনি আরও স্বীকার করেন, এই উন্নত রকেট লঞ্চার তৈরি করা সহজ ছিল না, তবে এতে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫৮.৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঠিক বাইরে গিয়ে পড়ে। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসেস-এর গবেষক লি হো-রাইউং এএফপিকে বলেন, আসন্ন সম্মেলনে কিম সম্ভবত ‘পরমাণু অস্ত্রের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে’—এমন ঘোষণা দিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং মূলত ওয়াশিংটন ও সিউলকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণু সাবমেরিন নির্মাণ উদ্যোগকে কিম সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কোনো চুক্তি হয়নি। বরং সামপ্রতিক পরীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—কিম জং উন আপোষের পথে না গিয়ে আরও আগ্রাসী কৌশলের দিকেই এগোচ্ছেন।