Dhaka ০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে ২৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৭ Time View

বিদেশ : ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে আটকা পড়ে অন্তত ২৩ জন নৌ-সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত শনিবার (জানুয়ারি) ভোরে রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি আঘাত হানে। নৌবাহিনীর ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গুল জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউ গিনি সীমান্ত টহলের প্রশিক্ষণ চলাকালীন চরম আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে পড়লে ওই মেরিন সেনারা মাটির নিচে চাপা পড়েন। পশ্চিম জাভার এই পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২০ জন সাধারণ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।তবে নৌবাহিনী ঘোষিত ২৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ অন্তত ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নয়টি খননকারী যন্ত্র বা এঙ্কাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্যোগ কবলিত পাসির লাঙ্গু গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ভূমিধসের পরপরই প্রায় ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি ভবনগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাভা দ্বীপে এখন বর্ষা মৌসুমের চূড়ান্ত সময় চলায় গত সপ্তাহ থেকেই রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বিভিন্ন শহরে বন্যার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মাটির আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।ইন্দোনেশিয়ায় গত দুই মাসে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর আগে সুমাত্রা দ্বীপে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। পশ্চিম জাভার এই সর্বশেষ ঘটনায় দেশের সামরিক বাহিনীর ওপর যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বেসামরিক যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং লোকজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে ২৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু

Update Time : ১১:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে আটকা পড়ে অন্তত ২৩ জন নৌ-সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত শনিবার (জানুয়ারি) ভোরে রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি আঘাত হানে। নৌবাহিনীর ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গুল জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউ গিনি সীমান্ত টহলের প্রশিক্ষণ চলাকালীন চরম আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে পড়লে ওই মেরিন সেনারা মাটির নিচে চাপা পড়েন। পশ্চিম জাভার এই পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২০ জন সাধারণ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।তবে নৌবাহিনী ঘোষিত ২৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ অন্তত ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নয়টি খননকারী যন্ত্র বা এঙ্কাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্যোগ কবলিত পাসির লাঙ্গু গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ভূমিধসের পরপরই প্রায় ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি ভবনগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাভা দ্বীপে এখন বর্ষা মৌসুমের চূড়ান্ত সময় চলায় গত সপ্তাহ থেকেই রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বিভিন্ন শহরে বন্যার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মাটির আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।ইন্দোনেশিয়ায় গত দুই মাসে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর আগে সুমাত্রা দ্বীপে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। পশ্চিম জাভার এই সর্বশেষ ঘটনায় দেশের সামরিক বাহিনীর ওপর যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বেসামরিক যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং লোকজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স