বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বললেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্মান রক্ষায় আবু সাঈদরা যেভাবে বুক পেতে দিয়েছিল, আমরাও ওভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ পরিবারের সবচেয়ে বড় সুযোগ-সুবিধা হলো আমরা তাদেরকে আমাদের মাথার তাজ করে রাখব। এটি কেবল মুখের কথা নয়, এটি আমাদের অন্তরের কথা।”
আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদসহ সব শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ইনশাআল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১০টি দল একত্রিত হয়ে ৩০০ আসনে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রার্থী দেয়া হয়েছে।
তরুণ ও যুবক ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যুবকদের কথা দিচ্ছি আল্লাহ আমাদের তওফিক দিলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ আমরা গড়ব ইনশাআল্লাহ। এই সমাজের চাবি এবং নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদের শক্তি ও সাহস যোগাব। তোমাদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যাব।”
‘তোমরা তৈরি হও। আগামী নির্বাচনে তোমাদের ভোটের প্রতিফলন হোক। তোমরা তোমাদের পছন্দমতো ভোট দেবে। কেউ যেন তোমাদের ভোট নিয়ে হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য জুলাই যোদ্ধা হয়ে তোমাদের আরেকবার লড়তে হবে। জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের যুবকরা তা করতে পারবে। আমাদের যুবকরা যে অঙ্গীকার নিয়েছে তার কাজ কেবল শুরু হয়েছে, এখনো শেষ হয়নি’-উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় পীরগঞ্জবাসীকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এখানে আমাদের আবেগের ঠিকানা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সাথে মোলাকাত করতে এসেছি। আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যে আমানতের বোঝা আমাদের ঘাড়ে রেখে গেছেন, জীবন দিয়ে হলেও আমরা সেই আমানত রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। যেখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী অবদান রাখবে। তারা “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমেছিল, আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নেই। আপনারা দেখেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি বা দুর্নীতি করি নাই এবং কারও ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেই নাই। আমরা বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই।’
এর আগে সকালে তিনি আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি তার তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।