Dhaka ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর পর জাপানে চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩ Time View

বিদেশ : জাপানে ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে এমন সিদ্ধান্ত, বলছে কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, “আমরা সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি এবং আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় রিঅ্যাক্টর চালু করার পরিকল্পনা আছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে এখনো সতর্ক থাকতে হবে।” এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদকারী অবশ্য বলেছেন, “আমরা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারি না। শুধু বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে রাখার কোনও কারণ নেই।” নিয়াগাতা প্রদেশের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া প্লান্টের সাতটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে প্রথমে মাত্র একটি চালু হবে। সবগুলো রিঅ্যাক্টর চালু হলে এটি ৮.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা জাপানের লাখ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারবে। টেপকো’র সভাপতি তোমোয়াকি কোবায়াকাওয়া বলেছেন, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই রিঅ্যাক্টর পরিচালনায় অপারেটরদের কখনও অতি আত্মবিশ্বাসী বা অহংকারী হওয়া উচিত নয়। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলোতে অ্যালার্ম ত্রুটিও থাকার কারণে রিঅ্যাক্টরগুলো চালু করতে কিছুটা দেরি হলেও বর্তমানে সেই ত্রুটি সারিয়ে আনা হয়েছে। এদিকে ৪০,০০০ মানুষ এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে প্লান্টের পুনরায় চালুর প্রতিবাদ করেছেন। তারা বলেছে, প্লান্টটি ভূমিকম্পের সক্রিয় ফল্ট জোনে আছে, তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্যোগের পর জাপান তাদের ৫৪টি রিঅ্যাক্টরের সবগুলো বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে ৩৩টি চালু করার যোগ্য প্লান্টের মধ্যে মাত্র ১৫টি চালু হয়েছে। এবার সরকার পুনরায় নিউক্লিয়ার শক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ধীরগতির বিকল্প হিসেবে সহায়ক হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

১৫ বছর পর জাপানে চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

Update Time : ১১:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : জাপানে ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে এমন সিদ্ধান্ত, বলছে কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, “আমরা সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি এবং আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় রিঅ্যাক্টর চালু করার পরিকল্পনা আছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে এখনো সতর্ক থাকতে হবে।” এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদকারী অবশ্য বলেছেন, “আমরা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারি না। শুধু বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে রাখার কোনও কারণ নেই।” নিয়াগাতা প্রদেশের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া প্লান্টের সাতটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে প্রথমে মাত্র একটি চালু হবে। সবগুলো রিঅ্যাক্টর চালু হলে এটি ৮.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা জাপানের লাখ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারবে। টেপকো’র সভাপতি তোমোয়াকি কোবায়াকাওয়া বলেছেন, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই রিঅ্যাক্টর পরিচালনায় অপারেটরদের কখনও অতি আত্মবিশ্বাসী বা অহংকারী হওয়া উচিত নয়। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলোতে অ্যালার্ম ত্রুটিও থাকার কারণে রিঅ্যাক্টরগুলো চালু করতে কিছুটা দেরি হলেও বর্তমানে সেই ত্রুটি সারিয়ে আনা হয়েছে। এদিকে ৪০,০০০ মানুষ এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে প্লান্টের পুনরায় চালুর প্রতিবাদ করেছেন। তারা বলেছে, প্লান্টটি ভূমিকম্পের সক্রিয় ফল্ট জোনে আছে, তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্যোগের পর জাপান তাদের ৫৪টি রিঅ্যাক্টরের সবগুলো বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে ৩৩টি চালু করার যোগ্য প্লান্টের মধ্যে মাত্র ১৫টি চালু হয়েছে। এবার সরকার পুনরায় নিউক্লিয়ার শক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ধীরগতির বিকল্প হিসেবে সহায়ক হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।