Dhaka ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে তৎপর দিল্লি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০ Time View

বিদেশ : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। গতকাল শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, চাবাহার বন্দরে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।ভারতের কাছে চাবাহার কেবল একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর। এছাড়া এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি প্রধান সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় অন্তত ১৫ দিন কমিয়ে আনবে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছে। সূত্রমতে, ভারত এই প্রকল্পে সরাসরি সরকারি সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সত্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যাতে ভারত সরকারের ওপর সরাসরি কোনো দায় বা ঝুঁকি না আসে কিন্তু উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ওপর এর প্রভাব হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের বিশাল অর্থনীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ভারত এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার বন্দর কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই স্থিতিশীল বাণিজ্য পথটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া। সূত্র: এনডিটিভি

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে তৎপর দিল্লি

Update Time : ১১:৫৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। গতকাল শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, চাবাহার বন্দরে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।ভারতের কাছে চাবাহার কেবল একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর। এছাড়া এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি প্রধান সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় অন্তত ১৫ দিন কমিয়ে আনবে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছে। সূত্রমতে, ভারত এই প্রকল্পে সরাসরি সরকারি সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সত্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যাতে ভারত সরকারের ওপর সরাসরি কোনো দায় বা ঝুঁকি না আসে কিন্তু উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ওপর এর প্রভাব হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের বিশাল অর্থনীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ভারত এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার বন্দর কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই স্থিতিশীল বাণিজ্য পথটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া। সূত্র: এনডিটিভি