ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে ফাতেমা (১৪)। ফাতেমা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহতরা আইনজীবী মো. শাহীন মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে। গত ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকায় শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমের ভাড়া বাসা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রনি চৌধুরী জানান, ফ্ল্যাটের ভেতরে খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের লাশ এবং ছাদ থেকে তার মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, মা ও মেয়ে নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ ও বাড়িওয়ালাকে জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বারবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষের কোনো সহযোগিতা পাইনি।
পুলিশও অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পরে বাড়ির মালিকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচে এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।’
শাহীন আহমেদ বলেন, ‘জিডি করতে গেলে জিডি না নিয়ে উল্টো আমাকেই দোষারোপ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে-পারিবারিক সমস্যার কারণে হয়ত আমার স্ত্রী ও সন্তান কোথাও চলে গেছে। গত ২১ দিনে শতাধিকবার থানায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো সুবিচার পাইনি।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রনি চৌধুরী জানান, ফ্ল্যাটের ভেতরে খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের লাশ এবং বাথরুমের সানসেট থেকে তার মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। মরদেহ দুটো রাখা হয় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে।