Dhaka ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিজে সমতা ফিরলো কিউইরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮ Time View

খেলাধুলা:লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান করেছিল ভারত। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জিং স্কোরকেও যে সহজে তাড়া করে ফেলবে নিউজিল্যান্ড, তা কে জানতো! লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন ড্যারিল মিচেল। নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারালো ভারতকে। ১৫ বল হাতে রাখা এই জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরলো কিউইরা। রানা তাড়া করতে গিয়ে রীতিমতো রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলো তারা। ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হাই স্কোরিং ম্যাচে ২৮৫ রানের লক্ষ্য ৪৭ দশমিক ৩ ওভারে সফলভাবে পেরিয়ে যায় কিউইরা, ফলে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেষ ম্যাচে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন লোকেশ রাহুল। ধীরগতির উইকেটে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯২ বলে ১১২ রান করেন তিনি। এটি ছিল ওয়ানডেতে রাহুলের অষ্টম শতক। শুভমান গিল ও রোহিত শর্মা মিলে ৭০ রানের জুটি গড়ে ভালো সূচনা এনে দিলেও মাঝের ওভারে ছন্দ হারায় ভারত। রোহিত শর্মা আউট হন ২৪ রান করে। ২৩ রান করেন বিরাট কোহলি। ৫৩ বলে ৫৬ রান করেন শুভমান গিল। ৩ রান করেন স্রেয়াশ আয়ার। মিডল অর্ডারে জ্বলে ওঠেন লোকেশ রাহুল। তিনি ছাড়া বাকিদের ওপর স্পিনে চাপ বাড়িয়ে ম্যাচে ফিরে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান। রাহুলের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার মার ছিল। রবিন্দ্র জাদেজা করেন ২৭, ২০ রান করেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক নেন ৩ উইকেট। জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। নতুন বলে ভারতীয় পেসারদের তোপে ৪৬ রানে দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ড্যারিল মিচেল ও উইল ইয়াং। এ দুজনের ১৬২ রানের জুটিতে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় ভারত। মিচেল স্পিনার কুলদীপ যাদবকে টার্গেট করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। কুলদীপ শেষ পর্যন্ত ৮২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। ইয়াং ৯৮ বলে ৮৭ রান করে আউট হয়ে ফিরলেও মিচেল অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ১১৭ বলে অপরাজিত ১৩১ রান করেন তিনি। ১১টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার ছিল তাতে। এটি ছিল মিচেলের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক- মাত্র ৫৩ ইনিংসে, যা তাকে অভিজাত তালিকায় নিয়ে গেছে। শীতল সন্ধ্যায় উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। কোনো শিশির না থাকলেও বল দ্রুত ব্যাটে আসছিল, যা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে যায়। ৪০তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসের চারেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। সর্বশেষ হর্ষিত রানার বলে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন ড্যারিল মিচেল। শেষ পর্যন্ত হাতে ৭ উইকেট রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে কিউইরা। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ হারের ধারা ভাঙলো নিউজিল্যান্ড। সিরিজ এখন সমতায়, আর শেষ ম্যাচে নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত বিজয়ী।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

সিরিজে সমতা ফিরলো কিউইরা

Update Time : ০৭:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

খেলাধুলা:লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান করেছিল ভারত। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জিং স্কোরকেও যে সহজে তাড়া করে ফেলবে নিউজিল্যান্ড, তা কে জানতো! লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন ড্যারিল মিচেল। নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারালো ভারতকে। ১৫ বল হাতে রাখা এই জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরলো কিউইরা। রানা তাড়া করতে গিয়ে রীতিমতো রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলো তারা। ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হাই স্কোরিং ম্যাচে ২৮৫ রানের লক্ষ্য ৪৭ দশমিক ৩ ওভারে সফলভাবে পেরিয়ে যায় কিউইরা, ফলে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেষ ম্যাচে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন লোকেশ রাহুল। ধীরগতির উইকেটে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯২ বলে ১১২ রান করেন তিনি। এটি ছিল ওয়ানডেতে রাহুলের অষ্টম শতক। শুভমান গিল ও রোহিত শর্মা মিলে ৭০ রানের জুটি গড়ে ভালো সূচনা এনে দিলেও মাঝের ওভারে ছন্দ হারায় ভারত। রোহিত শর্মা আউট হন ২৪ রান করে। ২৩ রান করেন বিরাট কোহলি। ৫৩ বলে ৫৬ রান করেন শুভমান গিল। ৩ রান করেন স্রেয়াশ আয়ার। মিডল অর্ডারে জ্বলে ওঠেন লোকেশ রাহুল। তিনি ছাড়া বাকিদের ওপর স্পিনে চাপ বাড়িয়ে ম্যাচে ফিরে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান। রাহুলের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার মার ছিল। রবিন্দ্র জাদেজা করেন ২৭, ২০ রান করেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক নেন ৩ উইকেট। জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। নতুন বলে ভারতীয় পেসারদের তোপে ৪৬ রানে দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ড্যারিল মিচেল ও উইল ইয়াং। এ দুজনের ১৬২ রানের জুটিতে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় ভারত। মিচেল স্পিনার কুলদীপ যাদবকে টার্গেট করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। কুলদীপ শেষ পর্যন্ত ৮২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। ইয়াং ৯৮ বলে ৮৭ রান করে আউট হয়ে ফিরলেও মিচেল অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ১১৭ বলে অপরাজিত ১৩১ রান করেন তিনি। ১১টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার ছিল তাতে। এটি ছিল মিচেলের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক- মাত্র ৫৩ ইনিংসে, যা তাকে অভিজাত তালিকায় নিয়ে গেছে। শীতল সন্ধ্যায় উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। কোনো শিশির না থাকলেও বল দ্রুত ব্যাটে আসছিল, যা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে যায়। ৪০তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসের চারেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। সর্বশেষ হর্ষিত রানার বলে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেন ড্যারিল মিচেল। শেষ পর্যন্ত হাতে ৭ উইকেট রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে কিউইরা। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ হারের ধারা ভাঙলো নিউজিল্যান্ড। সিরিজ এখন সমতায়, আর শেষ ম্যাচে নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত বিজয়ী।