Dhaka ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০ Time View

শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন শেষে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়। এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০০৯ সালে মেজর পদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা বিভাগে নিয়োগের পর জিয়াউল আহসান দীর্ঘ সময় ধরে র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও এডিজি (অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন অথবা তার নির্দেশ ও অনুমোদনে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, গাজীপুরে তিনজন হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটায় অর্ধশতাধিক হত্যা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে বন্দুকযুদ্ধ সাজিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা অপরাধী ও অপরাধের বিরুদ্ধে। যেসব প্রমাণ ও তথ্য আছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করা হবে।” তিনি জানান, গুম কমিশনের প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করা হবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের র‌্যাব অভিযানে ব্যবহারের পেছনের বাস্তবতাও উঠে আসবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালকে জানান, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষায়, “প্রসিকিউশন যে বক্তব্য দিচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর চিফ প্রসিকিউটর তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করে বিচার শুরুর পথ খুলে দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

Update Time : ০৮:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন শেষে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়। এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০০৯ সালে মেজর পদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা বিভাগে নিয়োগের পর জিয়াউল আহসান দীর্ঘ সময় ধরে র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও এডিজি (অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন অথবা তার নির্দেশ ও অনুমোদনে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, গাজীপুরে তিনজন হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটায় অর্ধশতাধিক হত্যা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে বন্দুকযুদ্ধ সাজিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা অপরাধী ও অপরাধের বিরুদ্ধে। যেসব প্রমাণ ও তথ্য আছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করা হবে।” তিনি জানান, গুম কমিশনের প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করা হবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের র‌্যাব অভিযানে ব্যবহারের পেছনের বাস্তবতাও উঠে আসবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালকে জানান, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষায়, “প্রসিকিউশন যে বক্তব্য দিচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর চিফ প্রসিকিউটর তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করে বিচার শুরুর পথ খুলে দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।