Dhaka ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ১জনের মৃত্যু, শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ Time View

বিদেশ : অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ দাবানলে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্যোগে কয়েক শত স্থাপনা পুড়ে গেছে। গতকাল রোববার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিডনি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে ডজনের বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এসব আগুনে ৩ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। গতকাল রোববার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তার আগের দিন কর্তৃপক্ষ ‘দুর্যোগ অবস্থা’ ঘোষণা করে। জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিশনার টিম উইবুশ জানান, গ্রামীণ এলাকায় খামারের শেডসহ তিন শতাধিক স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ৭০টির বেশি বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এর সঙ্গে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক বনভূমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর ফলে যেসব আগুন এখনও জ্বলছে, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ শুরু করতে পারছেন।’ পুলিশ জানায়, রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে উত্তরে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ লংউড শহরের কাছে এক ব্যক্তি দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন। ফরেস্ট ফায়ার ম্যানেজমেন্ট ভিক্টোরিয়ার ক্রিস হার্ডম্যান বলেন, ‘এই খবর আমাদের সব উদ্দীপনা কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি এবিসিকে বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার মানুষ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ এ সপ্তাহে তোলা ছবিতে দেখা যায়, লংউডের কাছে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় রাতের আকাশ কমলা আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে। গবাদিপশু খামারি স্কট পারসেল এবিসিকে বলেন, ‘চারদিকে আগুনের ফুলকি উড়ছিল, যা ছিল ভীষণ আতঙ্কজনক।’ ছোট শহর ওয়ালওয়ার কাছে আরেকটি দাবানল এতটাই তাপ ছড়ায় যে সেখানে স্থানীয়ভাবে বজ্রঝড় তৈরি হয়। দেশজুড়ে কয়েক শত দমকলকর্মীকে আগুন নেভাতে মোতায়েন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অতিরিক্ত সহায়তার জন্য তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে লাখো মানুষ চরম গরমে ভুগেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাস মিলিয়ে ‘ব্ল্যাক সামার’-এর পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে কোটি কোটি হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ধ্বংস হয় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শহরগুলো। গবেষকদের তথ্যমতে, ১৯১০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার গড় তাপমাত্রা ১.৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে স্থল ও সমুদ্রে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে। বিশ্বে গ্যাস ও কয়লার অন্যতম বড় উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। তবে এই দুটি (গ্যাস ও কয়লা) জীবাশ্ম জ্বালানিকেই বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী করা হয়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ১জনের মৃত্যু, শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই

Update Time : ১১:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ দাবানলে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্যোগে কয়েক শত স্থাপনা পুড়ে গেছে। গতকাল রোববার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিডনি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে ডজনের বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এসব আগুনে ৩ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। গতকাল রোববার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তার আগের দিন কর্তৃপক্ষ ‘দুর্যোগ অবস্থা’ ঘোষণা করে। জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিশনার টিম উইবুশ জানান, গ্রামীণ এলাকায় খামারের শেডসহ তিন শতাধিক স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ৭০টির বেশি বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এর সঙ্গে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক বনভূমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর ফলে যেসব আগুন এখনও জ্বলছে, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ শুরু করতে পারছেন।’ পুলিশ জানায়, রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে উত্তরে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ লংউড শহরের কাছে এক ব্যক্তি দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন। ফরেস্ট ফায়ার ম্যানেজমেন্ট ভিক্টোরিয়ার ক্রিস হার্ডম্যান বলেন, ‘এই খবর আমাদের সব উদ্দীপনা কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি এবিসিকে বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার মানুষ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ এ সপ্তাহে তোলা ছবিতে দেখা যায়, লংউডের কাছে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় রাতের আকাশ কমলা আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে। গবাদিপশু খামারি স্কট পারসেল এবিসিকে বলেন, ‘চারদিকে আগুনের ফুলকি উড়ছিল, যা ছিল ভীষণ আতঙ্কজনক।’ ছোট শহর ওয়ালওয়ার কাছে আরেকটি দাবানল এতটাই তাপ ছড়ায় যে সেখানে স্থানীয়ভাবে বজ্রঝড় তৈরি হয়। দেশজুড়ে কয়েক শত দমকলকর্মীকে আগুন নেভাতে মোতায়েন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অতিরিক্ত সহায়তার জন্য তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে লাখো মানুষ চরম গরমে ভুগেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাস মিলিয়ে ‘ব্ল্যাক সামার’-এর পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে কোটি কোটি হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ধ্বংস হয় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শহরগুলো। গবেষকদের তথ্যমতে, ১৯১০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার গড় তাপমাত্রা ১.৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে স্থল ও সমুদ্রে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে। বিশ্বে গ্যাস ও কয়লার অন্যতম বড় উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। তবে এই দুটি (গ্যাস ও কয়লা) জীবাশ্ম জ্বালানিকেই বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী করা হয়।