বিদেশ : অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে বহু ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে, হাজারো বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবরটি জানিয়েছে। ভিক্টোরিয়ার ফরেস্ট ফায়ার ম্যানেজমেন্টের প্রধান অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা ক্রিস হার্ডম্যান বলেছেন, “আবহাওয়া আবার গরম, শুষ্ক ও ঝোড়ো হয়ে ওঠার আগে এই দাবানলগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।” তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তরে লংউডের কাছে একটি গাড়ির ১০০ মিটারের মাঝেই এই দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। নিহতের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এই অঞ্চলটি লংউড দাবানলের আওতায় রয়েছে, যা রাজ্যের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি। এতে বহু বাড়িঘর, আঙুরক্ষেত ও কৃষিজমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারপ্রধান (প্রিমিয়ার) জাসিন্টা অ্যালান জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্তমানে ৩২টি সক্রিয় দাবানল রয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কয়েকটি আগুন সর্বোচ্চ বিপজ্জনক মাত্রায় জ্বলছে। তিনি বলেন, “রাজ্যের বিভিন্ন অংশে, এমনকি মেলবোর্ন মহানগর এলাকাতেও দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুর গুণগত মান খারাপ হয়ে পড়েছে।” প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘোষণা করেছেন, দাবানল-কবলিত বাসিন্দা ও কৃষকদের জন্য সরকার জরুরি তহবিল প্রদান করবে। তিনি বলেন, “হাজার হাজার গবাদিপশু দাবানল দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এখন এই গবাদিপশুগুলোকে সারিয়ে তোলা এবং কৃষকদের খাদ্য সরবরাহ করতেই বিপুল খরচ হচ্ছে।” সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া ভিক্টোরিয়ার দাবানলে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে ছাই হয়েছে, ৩০০টিরও অধিক স্থাপনা (যার মধ্যে বহু বাড়িঘর অন্তর্ভুক্ত) ধ্বংস হয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের মতে, ২০১৯-২০ সালের ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর এটাই ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড।