Dhaka ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনের সাবেক একজন জেনারেল গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ Time View

বিদেশ : ফিলিপাইনের বিমান বাহিনীর সাবেক একজন জেনারেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ম্যানিলার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। ম্যানিলা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গ্রেফতার হওয়া সাবেক জেনারেলের নাম রোমিও পোকুইজ। সমপ্রতি দুর্নীতিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিনি প্রকাশ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব জনভিক রেমুলা এএফপিকে জানান, থাইল্যান্ডে ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর ফিলিপাইন জাতীয় পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি বলেন, ‘সামপ্রতিক এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সকালে ব্যাংকক থেকে পৌঁছানোর পরই তাকে আটক করা হয়।’ এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান হোসে নারতাতেজ জানান, গত ৫ ডিসেম্বর জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পোকুইজকে আটক করা হয়েছে। ৬৭ বছর বয়সী এই সাবেক জেনারেল নিজেও ফেসবুক পোস্টে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লেখেন, ‘বিমানবন্দর টার্মিনালে ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের অপরাধ তদন্ত ও শনাক্তকরণ গ্রুপ আমাকে গ্রেফতার করেছে। ফিলিপিনোদের জয় হোক।’তিনি আরো জানান, তাকে ম্যানিলার ক্যাম্প ক্রাইম পুলিশ সদর দফতরে নেওয়া হচ্ছে। পোকুইজের আইনজীবী ফের্দিনান্দ টোপাসিও এএফপিকে বলেন, এখনো তাকে তার মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, মার্কোসের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান রাষ্ট্রদ্রোহে সরাসরি উসকানি নয়। বরং তা ছিল দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা। টোপাসিও বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে, সরকার জনগণের অর্থ লুটকারীদের বদলে দুর্নীতির কথা বলা মানুষদেরই দমন করছে।’ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান জেনারেল রোমিও ব্রাওনার গত অক্টোবরে জানান, পোকুইজের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা মার্কোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও সামরিক বাহিনী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের জানানো হয়েছে, সংবিধানের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন অটুট। ব্রাওনার আরো বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা কারো নাম প্রকাশ না করে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একজন সামরিক জান্তার নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল ফিলিপাইনের সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে ‘পুনস্থাপন’ করা। সামরিক হস্তক্ষেপের এই অভিযোগ উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ম্যানিলা ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। এসব প্রকল্পে করদাতাদের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। জুলাইয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ব্যাপক এই জালিয়াতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনেন। তার ঘনিষ্ঠ ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই অনেকে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কেউ কেউ দাবি করেন, এই দুর্নীতির অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন মার্কোস নিজেই। গতকাল সোমবার নতুন জাতীয় বাজেট স্বাক্ষরের সময় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোস এ গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ফিলিপাইনের সাবেক একজন জেনারেল গ্রেফতার

Update Time : ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : ফিলিপাইনের বিমান বাহিনীর সাবেক একজন জেনারেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ম্যানিলার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। ম্যানিলা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গ্রেফতার হওয়া সাবেক জেনারেলের নাম রোমিও পোকুইজ। সমপ্রতি দুর্নীতিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিনি প্রকাশ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব জনভিক রেমুলা এএফপিকে জানান, থাইল্যান্ডে ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর ফিলিপাইন জাতীয় পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি বলেন, ‘সামপ্রতিক এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সকালে ব্যাংকক থেকে পৌঁছানোর পরই তাকে আটক করা হয়।’ এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান হোসে নারতাতেজ জানান, গত ৫ ডিসেম্বর জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পোকুইজকে আটক করা হয়েছে। ৬৭ বছর বয়সী এই সাবেক জেনারেল নিজেও ফেসবুক পোস্টে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লেখেন, ‘বিমানবন্দর টার্মিনালে ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের অপরাধ তদন্ত ও শনাক্তকরণ গ্রুপ আমাকে গ্রেফতার করেছে। ফিলিপিনোদের জয় হোক।’তিনি আরো জানান, তাকে ম্যানিলার ক্যাম্প ক্রাইম পুলিশ সদর দফতরে নেওয়া হচ্ছে। পোকুইজের আইনজীবী ফের্দিনান্দ টোপাসিও এএফপিকে বলেন, এখনো তাকে তার মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, মার্কোসের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান রাষ্ট্রদ্রোহে সরাসরি উসকানি নয়। বরং তা ছিল দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা। টোপাসিও বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে, সরকার জনগণের অর্থ লুটকারীদের বদলে দুর্নীতির কথা বলা মানুষদেরই দমন করছে।’ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান জেনারেল রোমিও ব্রাওনার গত অক্টোবরে জানান, পোকুইজের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা মার্কোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও সামরিক বাহিনী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের জানানো হয়েছে, সংবিধানের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন অটুট। ব্রাওনার আরো বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা কারো নাম প্রকাশ না করে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একজন সামরিক জান্তার নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল ফিলিপাইনের সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে ‘পুনস্থাপন’ করা। সামরিক হস্তক্ষেপের এই অভিযোগ উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ম্যানিলা ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। এসব প্রকল্পে করদাতাদের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। জুলাইয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ব্যাপক এই জালিয়াতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনেন। তার ঘনিষ্ঠ ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই অনেকে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কেউ কেউ দাবি করেন, এই দুর্নীতির অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন মার্কোস নিজেই। গতকাল সোমবার নতুন জাতীয় বাজেট স্বাক্ষরের সময় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোস এ গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।