Dhaka ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, মাদুরো যাচ্ছেন আদালতে : ট্রাম্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪১ Time View

বিদেশ : ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি গতকাল সোমবার আরও স্পষ্ট হবে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যখন নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে। একই সময়ে মাদুরোর উত্তরসূরি সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ৬৩ বছর বয়সী বামপন্থি কট্টর নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রীও এই মামলার অভিযুক্ত। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক অভিযানে দু’জনকেই আটক করে কারাকাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযানে কমান্ডো বাহিনী, যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণ এবং ভেনেজুয়েলার উপকূলে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করা হয়। ভেনেজুয়েলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল সোমবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সেখানে তুলে ধরা হবে। তবে ট্রাম্প এতে বিচলিত নন বলেই মনে হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা ও এর বিপুল তেলসম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের তার পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে। গত রোববার গভীর রাতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আমরাই নিয়ন্ত্রণে আছি।’ওয়াশিংটনের জন্য সম্ভাব্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে, মাদুরোর উত্তরসূরি ও অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ গত রোববার রাতে সুর নরম করেন। এক বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, ‘সহযোগিতার একটি এজেন্ডা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে রদ্রিগেজকে সম্ভবত ‘মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।’ রদ্রিগেজের কাছ থেকে কী চান—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,‘আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। তাদের দেশের তেল ও অন্যান্য সম্পদে প্রবেশাধিকার চাই, যাতে আমরা তাদের দেশ পুনর্গঠন করতে পারি।’ ভেনেজুয়েলার ভেতরে বর্তমানে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে বলে জানা না গেলেও, উপকূলের বাইরে একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বিশাল নৌবহর অবস্থান করছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার অবরোধের মাধ্যমে তারা শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। মাদুরো ও তার প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক পূর্বসূরি হুগো চাভেজের প্রায় ২৫ বছরের কঠোর বাম শাসনের পর ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ কী হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা চাক শুমার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমেরিকানরা বিস্ময় ও ভয়—দু’টো নিয়েই মাথা চুলকাচ্ছে।’ হোয়াইট হাউস গত রোববার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শাসন পরিবর্তন নয়—শুধু মাদুরোর বিদায় ও তার সাবেক সহযোগীদের নিয়েই হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল একটি নতুন সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার বলেন, ওয়াশিংটন কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা শিগগির গণতন্ত্রে ফেরার লক্ষ্যেও নেই। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, পুরো মাদুরো সরকার উৎখাতের বদলে ‘তারা কী করে, তার ভিত্তিতেই আমরা মূল্যায়ন করব।’ এই অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে—যাদের দাবি অনুযায়ী, সামপ্রতিক নির্বাচনে মাদুরো তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। প্রধান বিরোধী নেতা এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ ‘গুরুত্বপূর্ণ’, কিন্তু রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজের বিজয়ের স্বীকৃতি ছাড়া তা ‘যথেষ্ট নয়।’ চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলো—যাদের সঙ্গে মাদুরো সরকারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক—দ্রুত এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন মাদুরোর ‘তাৎক্ষণিক মুক্তি’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নিন্দা জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়। ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, এই মার্কিন পদক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা’, যা মানবিক সংকট ডেকে আনবে। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালি ও ইসরায়েলের নেতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।

 

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, মাদুরো যাচ্ছেন আদালতে : ট্রাম্প

Update Time : ১০:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি গতকাল সোমবার আরও স্পষ্ট হবে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যখন নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে। একই সময়ে মাদুরোর উত্তরসূরি সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ৬৩ বছর বয়সী বামপন্থি কট্টর নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রীও এই মামলার অভিযুক্ত। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক অভিযানে দু’জনকেই আটক করে কারাকাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযানে কমান্ডো বাহিনী, যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণ এবং ভেনেজুয়েলার উপকূলে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করা হয়। ভেনেজুয়েলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল সোমবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সেখানে তুলে ধরা হবে। তবে ট্রাম্প এতে বিচলিত নন বলেই মনে হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা ও এর বিপুল তেলসম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের তার পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে। গত রোববার গভীর রাতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আমরাই নিয়ন্ত্রণে আছি।’ওয়াশিংটনের জন্য সম্ভাব্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে, মাদুরোর উত্তরসূরি ও অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ গত রোববার রাতে সুর নরম করেন। এক বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, ‘সহযোগিতার একটি এজেন্ডা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে রদ্রিগেজকে সম্ভবত ‘মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।’ রদ্রিগেজের কাছ থেকে কী চান—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,‘আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। তাদের দেশের তেল ও অন্যান্য সম্পদে প্রবেশাধিকার চাই, যাতে আমরা তাদের দেশ পুনর্গঠন করতে পারি।’ ভেনেজুয়েলার ভেতরে বর্তমানে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে বলে জানা না গেলেও, উপকূলের বাইরে একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বিশাল নৌবহর অবস্থান করছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার অবরোধের মাধ্যমে তারা শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। মাদুরো ও তার প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক পূর্বসূরি হুগো চাভেজের প্রায় ২৫ বছরের কঠোর বাম শাসনের পর ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ কী হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা চাক শুমার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমেরিকানরা বিস্ময় ও ভয়—দু’টো নিয়েই মাথা চুলকাচ্ছে।’ হোয়াইট হাউস গত রোববার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শাসন পরিবর্তন নয়—শুধু মাদুরোর বিদায় ও তার সাবেক সহযোগীদের নিয়েই হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল একটি নতুন সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার বলেন, ওয়াশিংটন কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা শিগগির গণতন্ত্রে ফেরার লক্ষ্যেও নেই। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, পুরো মাদুরো সরকার উৎখাতের বদলে ‘তারা কী করে, তার ভিত্তিতেই আমরা মূল্যায়ন করব।’ এই অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে—যাদের দাবি অনুযায়ী, সামপ্রতিক নির্বাচনে মাদুরো তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। প্রধান বিরোধী নেতা এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ ‘গুরুত্বপূর্ণ’, কিন্তু রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজের বিজয়ের স্বীকৃতি ছাড়া তা ‘যথেষ্ট নয়।’ চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলো—যাদের সঙ্গে মাদুরো সরকারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক—দ্রুত এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন মাদুরোর ‘তাৎক্ষণিক মুক্তি’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নিন্দা জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়। ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, এই মার্কিন পদক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা’, যা মানবিক সংকট ডেকে আনবে। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালি ও ইসরায়েলের নেতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।