সর্বশেষ :
শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি, ফলস বুকিংয়ে কড়াকড়ি

প্রতিনিধি: / ৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং টিকিটের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির অঙ্ক বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকিট সংকট তৈরির পথ বন্ধ করা হয়েছে নতুন অধ্যাদেশে।

ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন নিশ্চিত করা, যাত্রী হয়রানি কমানো এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা দিতে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অধ্যাদেশটি জারি করেন।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। বাসস জানায়, নতুন অধ্যাদেশে অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য আলাদা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে ১০ লাখ টাকা। তবে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য এই অঙ্ক এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বড় পরিসরে টিকিট বিক্রি ও লেনদেনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ফলস বুকিং’ বন্ধে। বানোয়াট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অন্য কোনো এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে লেনদেনও করা যাবে না।

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় নতুন আইনে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রলোভন, প্রতারণা বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় এবং টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

শাস্তির বিধানও আগের তুলনায় কঠোর করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা এজেন্সিকে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতারণা বা দুর্নীতি রোধে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন নবায়নের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর ট্রাভেল এজেন্সির সনদ নবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি বছর সরকারকে আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।


এই বিভাগের আরো খবর