সর্বশেষ :
গায়ক তানজীবের আত্মহত্যার চেষ্টার গুজব নিয়ে যা জানা গেলো ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা বানাতে চান রায়হান রাফী সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিলেন ইমরান ফের শাকিব খানের সাথে জুটি বাঁধছেন সাবিলা নূর মোরেলগঞ্জে মিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে বউ বরণ নয়, একসঙ্গে ৯ স্বজনের জানাজা, সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৪ জন নিহত, শোকে স্তব্ধ মোংলা ঈদ যাত্রার স্বস্তিতে ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী সংসদে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব, বললেন নবনির্বাচিত স্পিকার ইরানের স্কুলে হামলা: যা জানা গেছে ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ইতালির যে গ্রামে ৩০ বছর পর জন্ম নিলো কোনো শিশু

প্রতিনিধি: / ৪১ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির আবরুজো অঞ্চলের মাউন্ট গিরিফালকোর ঢালে অবস্থিত ক্ষুদ্র গ্রাম পাগলিয়ারা দেই মার্সি আজ যেন মানুষের চেয়ে বিড়ালের রাজ্য। সরু অলিগলিতে বিড়ালদের অবাধ বিচরণ, মানুষের ঘরে অনায়াস যাতায়াত আর পাহাড়মুখী পাঁচিলে আরাম করে শুয়ে থাকার দৃশ্যই এখানে নিত্যদিনের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় গ্রামটি কার্যত নীরবতায় আচ্ছন্ন, যেখানে বিড়ালদের গরগর শব্দই প্রাণের উপস্থিতি জানান দেয়। এই নীরবতা ভাঙতে শুরু করে চলতি বছরের মার্চে, যখন গ্রামটিতে জন্ম নেয় একটি শিশু। প্রায় তিন দশক পর জন্ম নেয়া এই শিশুর নাম লারা বুসি ট্রাবুক্কো। তার আগমনে গ্রামটির জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ জনে। এত ছোট একটি জনপদের জন্য এটি শুধু আনন্দের খবর নয়, বরং এক বিরল ঐতিহাসিক ঘটনা। লারার জন্মের পরপরই গ্রামের ঠিক বিপরীতের গির্জায় অনুষ্ঠিত হয় খ্রিস্টান ধর্মীয় দীক্ষা অনুষ্ঠান। সেই আয়োজনে গ্রামবাসীদের পাশাপাশি যেন নীরব সাক্ষী ছিল বিড়ালগুলোর দলও। গ্রামটিতে শিশু থাকা যেখানে একেবারেই অস্বাভাবিক, সেখানে লারা এখন গ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে শুধু এই শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য। লারার মা সিনজিয়া ট্রাবুক্কো বলেন, আগে অনেকেই জানতেন না পাগলিয়ারা দেই মার্সি নামের কোনো জায়গা আছে। কিন্তু এখন তার মেয়ের কারণে গ্রামটি পরিচিতি পাচ্ছে। মাত্র নয় মাস বয়সেই লারা যেন গ্রামটির প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই এক শিশুর জন্ম যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি তা ইতালির গভীর জনসংখ্যা সংকটের দিকটিও সামনে আনছে। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা ইস্ট্যাট জানিয়েছে, টানা ১৬ বছর ধরে জন্মহার কমতে কমতে ২০২৪ সালে তা ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ওই বছর দেশজুড়ে জন্ম নেয় মাত্র ৩ লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি শিশু। প্রজনন হার নেমে এসেছে গড়ে ১.১৮-এ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম নিচু হার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে চাকরির অনিশ্চয়তা, তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা, কর্মজীবী মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এবং স্বেচ্ছায় সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ইস্ট্যাটের ২০২৫ সালের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই ধারা আরও অবনতির দিকে। ইতালির ২০টি অঞ্চলের মধ্যে আবরুজোতেই পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে জন্মহার আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এই বাস্তবতায় পাগলিয়ারা দেই মার্সি যেন পুরো দেশের এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। এখানে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ নতুন প্রজন্ম প্রায় নেই বললেই চলে। স্থানীয় মেয়র জিউসেপিনা পেরোজ্জি জানান, গ্রামে একের পর এক বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হলেও তাদের জায়গা নেওয়ার মতো কোনো তরুণ প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। লারার বাবা-মা সরকারি ‘বেবি বোনাস’ ও মাসিক ভাতা পেলেও তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কাজের পাশাপাশি সন্তানের যত্ন। ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থা দুর্বল। ফলে অনেক নারী মাতৃত্বের পর চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। ট্রাবুক্কোর মতে, শুধু আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে এই সংকট কাটানো যাবে না; প্রয়োজন পুরো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার।

 

 

ছবি:০৭
ধ্বংসের ৩৩ বছর পর বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ, দর্শনার্থীদের ভিড়
এফএনএস আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে সেই একই আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বেলডাঙার মাটিতে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই এলাকাটি কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসলিম দর্শনার্থী মসজিদ নির্মাণের এই স্থানটি দেখতে আসছেন। ভিড় সামলাতে জেলা পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুদান ও জনসৃষ্ঠি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই এই মসজিদের অবস্থান হওয়ায় যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাসযাত্রীরাও যাত্রা বিরতি দিয়ে এখানে নামাজ আদায় করছেন। বর্তমানে সেখানে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী মসজিদে মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়ছেন। এই মসজিদ নির্মাণের জন্য কোনো সরকারি অনুদান নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দান করছেন। এমনকি ভিন রাজ্য থেকে অনেকে প্রতীকী হিসেবে একটি-দুটি করে ইট নিয়েও হাজির হচ্ছেন এই মহৎ কর্মে শরিক হতে। অস্থায়ী মেলা ও আবেগ মসজিদ প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে সেখানে এখন একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি অনেকটা মেলা প্রাঙ্গণের রূপ নিয়েছে, যেখানে বাবরি মসজিদের ছবি:০সম্বলিত স্টিকার ও টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে। আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, তারা নিজেদের অর্থায়নে আল্লাহর ঘর নির্মাণ করতে চান এবং এজন্য তারা বিশেষ দোয়াপ্রার্থনাও করছেন। প্রেক্ষাপট ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার স্মরণে ঠিক ৩৩ বছর পর, চলতি বছরের ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় এই নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। যদিও মূল নির্মাণকাজ কবে নাগাদ পুরোদমে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে মানুষের আবেগ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই প্রকল্পকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


এই বিভাগের আরো খবর