Dhaka ০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত জোট ছাড়তে পারে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৫ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে গঠিত ইসলামপন্থি আট দলের জোটে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তে চরম জটিলতায় পড়েছে এই জোট। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একক প্রার্থী নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চায় অন্তত পঁচিশ থেকে ত্রিশটি আসন। এসব দাবি পূরণ করতে গেলে জামায়াতের নিজের কাঙ্ক্ষিত আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, যা নিয়ে দলটির ভেতরেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই জটিলতার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যেতে এনসিপিও অন্তত পঞ্চাশটি আসনের প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে অন্য দলগুলোকেও আরও ছাড় দিতে হবে। ফলে পুরো সমঝোতার কাঠামো নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি একসঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিল। লক্ষ্য ছিল ইসলামী দলগুলোর ভোট এক জায়গায় এনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ সেই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

জোটের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানা গেছে, প্রত্যাশামতো আসন না পেলে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আলাদা প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, একটি বিশেষ মহল থেকে এসব দলকে আলাদা জোট করে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

তবে প্রকাশ্যে ঐক্য ভাঙার কথা অস্বীকার করছেন জামায়াত নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আসন কারও একার নয়, আসন সবার। সবাই কিছু ছাড় দেবে, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাবে।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো চলমান। তাঁর কথায়, “যেহেতু এখনো কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, তাই পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নও আসছে না। কাকে কোথায় দিলে ভালো হয়, সেই বিষয়গুলো নিয়েই কথা হচ্ছে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, তারা আট দলের ঐক্য ধরে রাখতে চান, তবে সেটি হতে হবে সম্মানজনকভাবে। তাঁর ভাষায়, “সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প চিন্তা করা হবে।” দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদও জানিয়েছেন, শিগগিরই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের কথাও উঠছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এনসিপি জোটগতভাবেই নির্বাচনে যেতে চায় এবং জামায়াতের সঙ্গে বোঝাপড়া হলে সেটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে আসন সমঝোতাকে ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

জামায়াত জোট ছাড়তে পারে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দল

Update Time : ০৮:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে গঠিত ইসলামপন্থি আট দলের জোটে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তে চরম জটিলতায় পড়েছে এই জোট। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একক প্রার্থী নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চায় অন্তত পঁচিশ থেকে ত্রিশটি আসন। এসব দাবি পূরণ করতে গেলে জামায়াতের নিজের কাঙ্ক্ষিত আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, যা নিয়ে দলটির ভেতরেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই জটিলতার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যেতে এনসিপিও অন্তত পঞ্চাশটি আসনের প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে অন্য দলগুলোকেও আরও ছাড় দিতে হবে। ফলে পুরো সমঝোতার কাঠামো নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি একসঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিল। লক্ষ্য ছিল ইসলামী দলগুলোর ভোট এক জায়গায় এনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ সেই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

জোটের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানা গেছে, প্রত্যাশামতো আসন না পেলে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আলাদা প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, একটি বিশেষ মহল থেকে এসব দলকে আলাদা জোট করে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

তবে প্রকাশ্যে ঐক্য ভাঙার কথা অস্বীকার করছেন জামায়াত নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আসন কারও একার নয়, আসন সবার। সবাই কিছু ছাড় দেবে, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাবে।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো চলমান। তাঁর কথায়, “যেহেতু এখনো কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, তাই পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নও আসছে না। কাকে কোথায় দিলে ভালো হয়, সেই বিষয়গুলো নিয়েই কথা হচ্ছে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, তারা আট দলের ঐক্য ধরে রাখতে চান, তবে সেটি হতে হবে সম্মানজনকভাবে। তাঁর ভাষায়, “সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প চিন্তা করা হবে।” দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদও জানিয়েছেন, শিগগিরই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের কথাও উঠছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এনসিপি জোটগতভাবেই নির্বাচনে যেতে চায় এবং জামায়াতের সঙ্গে বোঝাপড়া হলে সেটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে আসন সমঝোতাকে ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।