Dhaka ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের রক্তেভেজা যিশুর শহর বেথলেহেমে দুই বছর পর বড়দিন উদযাপন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫২ Time View

বিদেশ : গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য যিশুর জন্মের শহর বেথলেহেমে গত দুই বছর (২০২৩-২০২৪) ক্রিসমাস উদযাপন স্থগিত করা হয়েছিল। গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল বেথলেহেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্বর আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় এবং গত দুই বছরে ১০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞের মাঝে আয়োজনের পরিবর্তে খ্রিষ্টান গির্জাগুলোতে ছিল শোকের নীরব ছায়া। তবে সামপ্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে দুই বছর পর ফিলিস্তিনিদের কষ্টের মাঝে কিছুটা আনন্দ নিয়ে বেথলেহেমে বড়দিন ফিরে এসেছে। বেথলেহেম শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ম্যাঙ্গার স্কোয়ার এবং এর চারপাশের সরু গলিপথগুলো ঢোল এবং পিতলের শব্দে ভরে উঠেছে। স্কাউট দলগুলো তাদের অত্যাধুনিক ইউনিফর্ম পরে মিছিল করেছে। তারা ক্রিসমাস ক্যারল এবং ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন- যা ক্রিসমাস উদযাপনকে তাদের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে একত্রিত করে। আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল বুধবারের ক্রিসমাসের আগের দিন অনুষ্ঠিত উদযাপনের মধ্যে এক ধরণের মর্মস্পর্শী ভাব ছিল – দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো যীশুর জন্মস্থান বলে বিশ্বাস করা এই শহরে এমন উৎসবমুখর দৃশ্য ফিরে এসেছে। উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাত্তিস্তা পিৎজাবাল্লা, যিনি ফিলিস্তিন এবং বৃহত্তর অঞ্চলের সর্বোচ্চ পদস্থ ক্যাথলিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এই বেথলেহেমে- যেখান থেকে আমি কেবল বেথলেহেমেই নয়, সমগ্র বিশ্বকে ক্রিসমাসের বার্তা পাঠাই, সেখানে আমি আলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। এটি কেবল সূর্যের আলো নয়, বরং আপনার সুন্দর মুখের আলো। আমরা আলো হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর বেথলেহেমের আলো পৃথিবীর আলো। আজ, আমরা আপনাদের জন্য শান্তি, প্রার্থনা এবং হৃদয় নিয়ে এসেছি।’ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরাও রেহাই পায়নি। জুলাই মাসে গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় হামলায় তিন জন নিহত হন এবং একই মাসে পশ্চিম তীরের একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহরে হামলায় তিনজন নিহত হন। গত অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনেছে, যদিও ইসরায়েল লঙ্ঘন এবং উপত্যকায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন হামলার ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরেও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, যদিও ম্যাঙ্গার স্কোয়ারের মেজাজ হালকা হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর পরিবেশে, তবুও যুদ্ধের বাস্তবতা সেখানে অনুপস্থিত ছিল না। এ দিনও ইসরায়েলি অভিযান এবং চেকপয়েন্ট অব্যাহত ছিল। উদযাপন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বাহিনী শহরের নিকটবর্তী ধেইশেহ এবং আইদার শরণার্থী শিবির থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাত্তিস্তা পিৎজাবাল্লা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি গাজা ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গাজায় … আমি সম্পূর্ণ ধ্বংস প্রত্যক্ষ করেছি।’‘কিন্তু গাজার ধ্বংসের মাঝেও, আমি জীবনের প্রতি এক আবেগ অনুভব করেছি। শূন্যতার মাঝেও, মানুষ আনন্দ এবং উদযাপনের কারণ তৈরি করেছে। তারা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আমরা মানব ধ্বংস সত্ত্বেও ফিরে আসতে পারি এবং আবার পুনর্র্নিমাণ করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গাজা এবং বেথলেহেমে উদযাপন করতে সক্ষম হব। আমরা আবার সবকিছু নতুন করে তৈরি করতে ফিরে আসব।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

ফিলিস্তিনিদের রক্তেভেজা যিশুর শহর বেথলেহেমে দুই বছর পর বড়দিন উদযাপন

Update Time : ০৭:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বিদেশ : গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য যিশুর জন্মের শহর বেথলেহেমে গত দুই বছর (২০২৩-২০২৪) ক্রিসমাস উদযাপন স্থগিত করা হয়েছিল। গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল বেথলেহেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্বর আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় এবং গত দুই বছরে ১০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞের মাঝে আয়োজনের পরিবর্তে খ্রিষ্টান গির্জাগুলোতে ছিল শোকের নীরব ছায়া। তবে সামপ্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে দুই বছর পর ফিলিস্তিনিদের কষ্টের মাঝে কিছুটা আনন্দ নিয়ে বেথলেহেমে বড়দিন ফিরে এসেছে। বেথলেহেম শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ম্যাঙ্গার স্কোয়ার এবং এর চারপাশের সরু গলিপথগুলো ঢোল এবং পিতলের শব্দে ভরে উঠেছে। স্কাউট দলগুলো তাদের অত্যাধুনিক ইউনিফর্ম পরে মিছিল করেছে। তারা ক্রিসমাস ক্যারল এবং ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন- যা ক্রিসমাস উদযাপনকে তাদের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে একত্রিত করে। আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল বুধবারের ক্রিসমাসের আগের দিন অনুষ্ঠিত উদযাপনের মধ্যে এক ধরণের মর্মস্পর্শী ভাব ছিল – দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো যীশুর জন্মস্থান বলে বিশ্বাস করা এই শহরে এমন উৎসবমুখর দৃশ্য ফিরে এসেছে। উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাত্তিস্তা পিৎজাবাল্লা, যিনি ফিলিস্তিন এবং বৃহত্তর অঞ্চলের সর্বোচ্চ পদস্থ ক্যাথলিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এই বেথলেহেমে- যেখান থেকে আমি কেবল বেথলেহেমেই নয়, সমগ্র বিশ্বকে ক্রিসমাসের বার্তা পাঠাই, সেখানে আমি আলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। এটি কেবল সূর্যের আলো নয়, বরং আপনার সুন্দর মুখের আলো। আমরা আলো হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর বেথলেহেমের আলো পৃথিবীর আলো। আজ, আমরা আপনাদের জন্য শান্তি, প্রার্থনা এবং হৃদয় নিয়ে এসেছি।’ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরাও রেহাই পায়নি। জুলাই মাসে গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় হামলায় তিন জন নিহত হন এবং একই মাসে পশ্চিম তীরের একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহরে হামলায় তিনজন নিহত হন। গত অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনেছে, যদিও ইসরায়েল লঙ্ঘন এবং উপত্যকায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন হামলার ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরেও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, যদিও ম্যাঙ্গার স্কোয়ারের মেজাজ হালকা হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর পরিবেশে, তবুও যুদ্ধের বাস্তবতা সেখানে অনুপস্থিত ছিল না। এ দিনও ইসরায়েলি অভিযান এবং চেকপয়েন্ট অব্যাহত ছিল। উদযাপন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বাহিনী শহরের নিকটবর্তী ধেইশেহ এবং আইদার শরণার্থী শিবির থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাত্তিস্তা পিৎজাবাল্লা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি গাজা ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গাজায় … আমি সম্পূর্ণ ধ্বংস প্রত্যক্ষ করেছি।’‘কিন্তু গাজার ধ্বংসের মাঝেও, আমি জীবনের প্রতি এক আবেগ অনুভব করেছি। শূন্যতার মাঝেও, মানুষ আনন্দ এবং উদযাপনের কারণ তৈরি করেছে। তারা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আমরা মানব ধ্বংস সত্ত্বেও ফিরে আসতে পারি এবং আবার পুনর্র্নিমাণ করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গাজা এবং বেথলেহেমে উদযাপন করতে সক্ষম হব। আমরা আবার সবকিছু নতুন করে তৈরি করতে ফিরে আসব।’