নতুন মৌসুমের শুরুটাই দুঃস্বপ্নের মতো হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসা হাল সিটির কাছে ২-০ গোলে হেরে গেল রেড ডেভিলসরা। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন পরাজয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। প্রিমিয়ার লিগে ওঠার পর থেকেই হাল সিটিকে নিয়ে ছিল সংশয়। প্লে-অফ জিতে শীর্ষ স্তরে জায়গা করে নেওয়া দলটিকে নিয়ে প্রায় সব বিশ্লেষকই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, দ্রুতই চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে যেতে হবে তাদের। এমনকি সাবেক ইংল্যান্ড তারকা জো কোলও বলেছিলেন, হালের অবনমন প্রায় নিশ্চিত। স্বাভাবিকভাবেই এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্বাগতিক সমর্থকেরা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সব সংশয়ের জবাব দিয়েছে সার্জেই জাকিরোভিচের দল। গত শনিবার দুপুরের ম্যাচে প্রথমার্ধেই দুই সেট-পিস থেকে গোল করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হতবাক করে দেয় ‘টাইগার্স’রা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল হাল সিটি। পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন অলি ম্যাকবার্নি। তবে দারুণ এক ক্লিয়ারেন্সে তাকে থামানো হয়। এরপর ম্যাকবার্নির শক্তিশালী হেডও আটকে দেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনি লামেন্স। অন্যদিকে ইউনাইটেডও একেবারে সুযোগহীন ছিল না। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কনস্টান্টিনোস জোলোফাকিস ব্রায়ান এমবুমোর একটি প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দেন। এরপর রায়ান গাইলসের ক্রস-শটও সামলে নেন লামেন্স। ১৭ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি কর্নার। স্লেটারের নেওয়া জোরালো বল ফ্লিক করে দেওয়া হলে ম্যাকবার্নির শট দারুণ দক্ষতায় দূরের পোস্টে ঠেকান লামেন্স। কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে সেমি আজাইয়ি জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে হালকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পরও ইউনাইটেড নিজেদের সেরা অবস্থায় ফিরতে পারেনি। আক্রমণে কোনো কার্যকর ফোকাল পয়েন্ট তৈরি করতে পারেনি ক্যারিকের দল। এরই সুযোগ নেয় হাল সিটি। ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি আসে আরেকটি সেট-পিস থেকে। বঙ্রে বাইরে মোহামেদ বেল্লুমিকে ফাউল করে ফ্রি-কিক উপহার দেন অভিষিক্ত ইউরি টাইলেমান্স। সেখান থেকে স্লেটারের নিখুঁত ক্রস মাথা ছুঁইয়ে জালে পাঠান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা নোবেল মেন্ডি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যালারিতে উৎসব শুরু হয়ে যায়। উচ্ছ্বসিত হাল সমর্থকেরা ‘টাইগার্সের কাছে তোমরা বিধ্বস্ত’ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে জো কোলের আগের মন্তব্য নিয়েও তাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তারা। প্রথমার্ধ শেষে হাল সিটিকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সমর্থকেরা। বিরতির পর ম্যাচের পরিস্থিতি বদলাতে মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামান ক্যারিক। ৬১৮ দিন পর ইউনাইটেডের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামেন রাশফোর্ড। তবে রাশফোর্ডের আগমনেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। হাল সিটি দুর্দান্ত শৃঙ্খলায় ইউনাইটেডকে দূরে আটকে রাখে এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ম্যাচের এক পর্যায়ে ম্যাকবার্নির দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল হালের আক্রমণাত্মক মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। ঘণ্টা পার হওয়ার পর দূরপাল্লার শটে বেল্লুমিও গোলের চেষ্টা করেন। গোলদাতা মেন্ডি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে হাল সিটি কিছুটা বিপাকে পড়ে। অন্যদিকে ক্যারিক বেঞ্চ থেকে একের পর এক পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামানো হয় নতুন তারকা বেঞ্জামিন শেস্কোকেও। তৃতীয় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে হাল সিটি। বদলি কোডি দ্রামেহর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এমবুমোর একটি প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে তার আরেকটি শটও ঠেকিয়ে দেন জোলোফাকিস। শেষ দিকে ইউনাইটেডের হয়ে সাবেক হাল ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি রেড ডেভিলসরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে হাল সিটি। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমেই এমন দুর্দান্ত জয় নিঃসন্দেহে ক্লাবটির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।