মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জামাল হাওলাদার জীবন জীবিকার তাগিদে সাগরে গিয়েছিল মাছ ধরতে। চেয়েছিলেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু সে স্বপ্ন সাধ কেড়ে নিল গভীর উত্তাল সমুদ্র। লাশ হয়ে ফিরল বাড়ীতে। ভঙ্গ হলো স্বপ্ন।
জামাল হাওলাদার (৫৮) বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আমতলী গ্রামের
বাসিন্দা। তিনি পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং স্ত্রী-সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত ২৫ জুলাই আলম আকনের ট্রলারে সাগরে ইলিশ মাছ ধরতে সাগরে যান।
১৮আগষ্ট সুন্দরবনের স্যালার চর নামক স্থনে প্রচন্ড তুফান থাকাবস্থায় সাগরে জাল ফেলতে গিয়ে তিনি
সাগরে পড়ে যান। অনেক খোঁজাখুজি করেও ওই দিন তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন ১৯ আগষ্ট দুপুরে
মাছ ধরা জালে জামালের মরদেহ পাওয়া যায়। ঐদিন রাত ৮ টার দিকে সাগর থেকে জামালেরর মরদের তার
বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রাত ১০ টার দিকে জামাল হাওলদারের মরদেহ দাফন করা হয়। সমুদ্ধেসঢ়;্র জীবন দিল
জামাল রেখে গেল স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে । পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন
দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল হাওলাদার ছিলেন হতদরিদ্র। নদীভাঙনে নিজের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি
হারিয়ে তিনি পূর্ব আমতলী গুচ্ছগ্রামে বসবাস করেন। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং
স্ত্রী-সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় আলম আকনের ট্রলারে সাগরে
ইলিশ মাছ ধরতে সমুদ্ধেসঢ়;্র জান। একদিকে নদী ভাঙ্গনে নি:স্ব হলো একটি পরিবার অপরদিকে সমুদ্র কেড়ে
নিল তার পরিবারের স্বপ্ন। পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর
স্ত্রী ও সন্তানেরা। কিভাবে সংসার চলবে এনিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। জরুরীভিত্তিতে দরকার কর্মসংস্থান ।
জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোরেলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য সমিতির
নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নিহতের বাড়িতে যান। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে
গভীর সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মোরেলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা
রনজিৎ কুমার বলেন, আমি জামাল হাওলাদারের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আমার
সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিধি মোতাবেক সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
করব।