পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি যে শ্রেণিকক্ষে নিরাপদে পড়াশোনা করার কথা কোমলমতি শিশুদের, সেই শ্রেণিকক্ষেই যদি মাথার ওপরের ফ্যান খুলে পড়ে—তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্ব কোথায়? এমনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে। ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্যান খুলে পড়ে নাক ও মুখে আঘাত পেয়েছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া ইভনাত আলভী। রোববার সকাল ১১টার দিকে কপিলমুনির ৪৭ নম্বর হাউলী-প্রতাপকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত আফিয়া ইভনাত আলভী ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে আঃ কুদ্দুস খানের মেয়ে। তার বাবা পেশায় একজন ইজিবাইকচালক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। এ সময় হঠাৎ ফ্যানের রডের সংযোগস্থল খুলে ফ্যানটি নিচে থাকা একটি বেঞ্চের ওপর পড়ে। এতে ফ্যানের পাখা শিক্ষার্থী আফিয়ার নাক ও মুখে আঘাত করে। দুর্ঘটনায় তার মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি প্রাইভেট কারে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সাধু বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এর আগে ফ্যানটিতে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সেটি আমরাও বুঝতে পারিনি। ফ্যানের রডের সংযোগস্থল খুলে গিয়ে সেটি বেঞ্চের ওপর পড়ে। এ সময় ফ্যানের পাখা শিক্ষার্থীর নাক ও মুখে লাগে। এতে তার মুখে ক্ষত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো রয়েছে।
তবে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানরত অবস্থায় ফ্যান খুলে পড়ে শিশুশিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, কোমলমতি শিশুদের দিনের একটি বড় সময় কাটে বিদ্যালয়ে। সেখানে একটি ফ্যানের সংযোগস্থল খুলে পড়ার মতো ঘটনা ঘটলে অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের সরঞ্জাম কতটা নিরাপদ—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের দাবি, শুধু দুর্ঘটনাকবলিত ফ্যানটি নয়, বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, বৈদ্যুতিক সংযোগ, ছাদ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সরঞ্জাম দ্রুত পরীক্ষা করা হোক। কোনো সরঞ্জাম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তা মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একটি ফ্যানের সংযোগ খুলে পড়া হয়তো কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা; কিন্তু একটি শিশুর মুখে সেই ফ্যানের আঘাত একটি পরিবারের জন্য হতে পারে আজীবনের আতঙ্ক। তাই দুর্ঘটনার
কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
এদিকে আহত ছোট্ট আফিয়া ইভনাত আলভীর দ্রুত সুস্থতার জন্য তার পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়রা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।