Dhaka ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোড়েলগঞ্জে মাসুদ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২৯ Time View

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১১নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে
‘মাসুদ বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ
মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই বাহিনীর প্রধান মোঃ মাসুদ
মোল্লা, যিনি ইউনিয়ন তাতীঁলীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও পরিচিত, তার নেতৃত্বে
চাঁদাবাজি, ঘের দখল, মাদক ব্যবসা ও নানা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে
যাচ্ছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব
অভিযোগ করেন ১১নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোঃ
আবুল কালাম মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাসুদ মোল্লার বাহিনীতে ইমরান মোল্লা, রাজ্জাক
মোল্লা, লোকমান মিয়া, রায়হান মোল্লা, মুন্না মোল্লা এবং আরও অজ্ঞাত অনেকে
জড়িত। তারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,২০১২ সালে এই বাহিনী ফুলহাতা গ্রামের মান্নান নামে এক
ব্যক্তির দুটি চোখ উপড়ে ফেলে। পরে মাসুদ সিলেটে পালিয়ে গিয়ে চোরাচালান ও
ডাকাতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ফিরে এসে হিন্দু
সম্প্রদায়ের মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের জমি-ঘর দখল করে নেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়,২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হিন্দুপাড়া এলাকায় একটি
যৌথ মৎস্য ঘের বারবার দখল করে ঘেরের মৎস্যসম্পদ লুটপাট করা হয়। ২০২৪ সালে
ঘেরের অস্থায়ী বাড়ি (গৈঘর) পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং চৌকিদারকে দেশীয় অস্ত্র
দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
সবশেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মাসুদ
বাহিনী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আবুল কালাম মোল্লাসহ স্থানীয়দের মৎস্য
ঘের দখল করে নেয় এবং চৌকিদার মোঃ জুলফিকার আলী (৫০)-কে মারধর করে গুরুতর
জখম করে। এ ঘটনায় তার সামনের দাঁত ভেঙে যায়। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে
কুপিয়ে আহত করা হয় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩৮), শামীম হোসেন
(৩০) ও কবীর হোসেন (৩২)-কে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মাসুদ বাহিনী বর্তমানে আরও বড় ধরনের সহিংস
কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে। যে কোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
অতএব, তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ বেদার হোসেন হাওলাদার, মোঃ ইব্রাহিম
মিয়া, মিন্টু মিয়া, মোঃ হান্নান খান, মোঃ রাসেল মোল্লা, মোঃ কবির খানসহ
এলাকার শতাধীক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

মোড়েলগঞ্জে মাসুদ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

Update Time : ১১:০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১১নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে
‘মাসুদ বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ
মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই বাহিনীর প্রধান মোঃ মাসুদ
মোল্লা, যিনি ইউনিয়ন তাতীঁলীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও পরিচিত, তার নেতৃত্বে
চাঁদাবাজি, ঘের দখল, মাদক ব্যবসা ও নানা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে
যাচ্ছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব
অভিযোগ করেন ১১নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোঃ
আবুল কালাম মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাসুদ মোল্লার বাহিনীতে ইমরান মোল্লা, রাজ্জাক
মোল্লা, লোকমান মিয়া, রায়হান মোল্লা, মুন্না মোল্লা এবং আরও অজ্ঞাত অনেকে
জড়িত। তারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,২০১২ সালে এই বাহিনী ফুলহাতা গ্রামের মান্নান নামে এক
ব্যক্তির দুটি চোখ উপড়ে ফেলে। পরে মাসুদ সিলেটে পালিয়ে গিয়ে চোরাচালান ও
ডাকাতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ফিরে এসে হিন্দু
সম্প্রদায়ের মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের জমি-ঘর দখল করে নেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়,২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হিন্দুপাড়া এলাকায় একটি
যৌথ মৎস্য ঘের বারবার দখল করে ঘেরের মৎস্যসম্পদ লুটপাট করা হয়। ২০২৪ সালে
ঘেরের অস্থায়ী বাড়ি (গৈঘর) পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং চৌকিদারকে দেশীয় অস্ত্র
দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
সবশেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মাসুদ
বাহিনী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আবুল কালাম মোল্লাসহ স্থানীয়দের মৎস্য
ঘের দখল করে নেয় এবং চৌকিদার মোঃ জুলফিকার আলী (৫০)-কে মারধর করে গুরুতর
জখম করে। এ ঘটনায় তার সামনের দাঁত ভেঙে যায়। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে
কুপিয়ে আহত করা হয় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩৮), শামীম হোসেন
(৩০) ও কবীর হোসেন (৩২)-কে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মাসুদ বাহিনী বর্তমানে আরও বড় ধরনের সহিংস
কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে। যে কোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
অতএব, তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ বেদার হোসেন হাওলাদার, মোঃ ইব্রাহিম
মিয়া, মিন্টু মিয়া, মোঃ হান্নান খান, মোঃ রাসেল মোল্লা, মোঃ কবির খানসহ
এলাকার শতাধীক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।