Dhaka ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“এবারের নির্বাচনে আইনের শাসন কাকে বলে, তা দেখাতে চাই”— সিইসি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২৬ Time View

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতার প্রকৃত উদাহরণ উপস্থাপন করতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা চাই, জনগণ এমন একটি নির্বাচন দেখুক যেখানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা থাকবে— আর সবাই বিশ্বাস করবে, আইন সবার জন্য সমান।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কর্মশালায় বক্তব্য দেন সিইসি। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে প্রতিটি ভোটার নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।

সিইসি বলেন, “একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হলে আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিক দৃঢ়তা দুটোই দরকার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই সেই কাঠামোর মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ, যাদের আগে ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই, তারাও দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারই হচ্ছেন চিফ ইলেকশন অফিসার। আইন অনুযায়ী তার সব ধরনের ক্ষমতা আছে। প্রয়োজনে ভোট স্থগিত করুন, আইন প্রয়োগ করুন, তবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন— এটাই আপনার কর্তব্য।”

বাংলাদেশের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সিইসি নিরাপত্তা ইস্যুকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত নানা বিষয় থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে জটিল। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে একটি ‘সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন সেল’ এবং ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করছে, যাতে যেকোনো জায়গা থেকে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ও এআই-ভিত্তিক অপপ্রচার মোকাবিলায়ও একটি বিশেষ সেল গঠিত হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আরও প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্বীকার করেন সিইসি। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আপনাদের পূর্ণ সমর্থন দেব। তবে দায়িত্বে অবহেলা করলে সেটি আর সহনীয় থাকবে না।”

শেষে সিইসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করবে— বাংলাদেশে আইন ও গণতন্ত্র এখনো টিকে আছে। আমরা সবাই মিলে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করব, ইনশাআল্লাহ।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

“এবারের নির্বাচনে আইনের শাসন কাকে বলে, তা দেখাতে চাই”— সিইসি

Update Time : ১০:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতার প্রকৃত উদাহরণ উপস্থাপন করতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা চাই, জনগণ এমন একটি নির্বাচন দেখুক যেখানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা থাকবে— আর সবাই বিশ্বাস করবে, আইন সবার জন্য সমান।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কর্মশালায় বক্তব্য দেন সিইসি। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে প্রতিটি ভোটার নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।

সিইসি বলেন, “একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হলে আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিক দৃঢ়তা দুটোই দরকার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই সেই কাঠামোর মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ, যাদের আগে ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই, তারাও দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারই হচ্ছেন চিফ ইলেকশন অফিসার। আইন অনুযায়ী তার সব ধরনের ক্ষমতা আছে। প্রয়োজনে ভোট স্থগিত করুন, আইন প্রয়োগ করুন, তবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন— এটাই আপনার কর্তব্য।”

বাংলাদেশের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সিইসি নিরাপত্তা ইস্যুকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত নানা বিষয় থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে জটিল। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে একটি ‘সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন সেল’ এবং ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করছে, যাতে যেকোনো জায়গা থেকে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ও এআই-ভিত্তিক অপপ্রচার মোকাবিলায়ও একটি বিশেষ সেল গঠিত হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আরও প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্বীকার করেন সিইসি। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আপনাদের পূর্ণ সমর্থন দেব। তবে দায়িত্বে অবহেলা করলে সেটি আর সহনীয় থাকবে না।”

শেষে সিইসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করবে— বাংলাদেশে আইন ও গণতন্ত্র এখনো টিকে আছে। আমরা সবাই মিলে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করব, ইনশাআল্লাহ।”