ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দে থমকে যাচ্ছে পুরো মহাসড়কের যান চলাচল। প্রায় তিন মাস ধরে চলা অস্থায়ী সংস্কারকাজের মধ্যেই টানা বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবারের পর শনিবার (৮ আগস্ট)ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যান চলাচল ছিল ধীরগতির। বিশেষ করে আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর কিছু যানবাহন উল্টো পথে চট্টগ্রামমুখী লেনে ঢুকে পড়ছে। এতে ওই লেনেও যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের দুই পাশেই দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কের আমতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারকাজের জন্য এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চালানো হচ্ছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই বিকল্প লেনেরও বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও গর্তে পানি জমেছে, কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কাদাপানি।
গর্তে পানি জমে থাকায় অনেক সময় এর গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও নিচু প্রাইভেট কারগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোনো ভারী যানবাহন গর্তে আটকে পড়লেই পেছনে মুহূর্তের মধ্যে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, আমতলী এলাকায় প্রায় তিন মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। এর মধ্যে সংস্কার করা অংশের আশপাশের সড়কও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সংস্কার শুরু হয়নি।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, টানা তিন থেকে চার সপ্তাহের বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু আমতলী এলাকাতেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে পড়ে। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি ভারী যানবাহন আটকে গেলেই পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সওজ বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচের বাসচালক মো. হাসান বলেন, বাস গর্ত পার হতে পারলেও ভারী ট্রাক ও প্রাইভেট কারগুলো গর্তে নামতে চায় না। তাদের ধীরগতির কারণে পুরো সড়কে জট তৈরি হচ্ছে।
‘এশিয়া লাইন’ বাসের চালক হানিফ সরকারও একই সমস্যার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, বাস অনেক জায়গা দিয়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু ভারী ট্রাক বা নিচু প্রাইভেট কার গর্তে নামতে চায় না। এসব যান ধীরে চলায় যানজট বাড়ে।
ট্রাকচালক আমজাদ বলেন, গত তিন মাস ধরে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে যাতায়াত করছেন। ঢাকায় ফেরার সময় আমতলী এলাকায় প্রায়ই আটকে যেতে হয়। ট্রাকে মালামাল বোঝাই থাকায় গর্তের ওপর দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে চালানো সম্ভব হয় না। ফলে খুব ধীরগতিতে চলতে হয়।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রী সোহান আহমেদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। তাই সড়কটির সংস্কারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, সংস্কারকাজ যেমন টেকসই হওয়া দরকার, তেমনি সংস্কারের আগে কার্যকর বিকল্প পথও তৈরি করা উচিত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। রোদ উঠলেই আবার কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে, মাত্র আধা কিলোমিটার অংশের সড়কের বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকছেন শত শত যানবাহনের যাত্রী। সময় নষ্টের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও বাড়ছে ভোগান্তি।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি আমতলী অংশের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিনের যানজট কমাতে দ্রুত সড়ক মেরামত এবং টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।