1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো এক দিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) তিনি বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বাঁশখালীতে ১০০টি নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন তিনি। সফরে বাঁশখালী ও হাটহাজারীতে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। বন্যায় গৃহহারা ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবিও তুলে দেবেন তিনি।

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। চলছে মঞ্চ তৈরির কাজও। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফরটি ঘিরে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

গত জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে প্রায় ২৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘরবাড়িসহ বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ঘোষণার প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয়দের।

বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির পেলাগাজি দিঘির মাঠে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং হেলিকপ্টার মহড়াও হয়েছে।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন তিনি।

পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক রহমান। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

হাটহাজারীতেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে সেখানে প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে সন্ধ্যায় পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। দলীয় নেতারা তাদের সাংগঠনিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন বিষয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের পদে থাকা নেতাকর্মীদের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সব বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফটিকছড়িতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে ইউনিয়ন পর্যায়েও প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়িতে আসছেন, এ খবরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁর সফর ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হবেন এবং সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের এটিই প্রথম সফর। এর আগে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে সফর করেছিলেন।

সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রাতে চট্টগ্রাম নগরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd