গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ১১ দফা দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৪ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই দিনে জোটের পক্ষ থেকেও ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা বক্তৃতা দিতে নয়, জনগণের ১১ দফা দাবি মানুষের সামনে তুলে ধরতে এসেছেন। তার ভাষায়, “এই ১১ দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থের জন্য নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি।”
তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জনভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে, ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা থেকে রংপুর সড়কপথে, ১০ অক্টোবর (শনিবার) ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অভিমুখে সড়কপথে এবং ২৪ অক্টোবর (শনিবার) ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রেলপথে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
জোটের নেতারা জানান, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলতেই এ ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের এই লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হলে তা দ্বিগুণ শক্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জনগণের দাবি শুনতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই দেশব্যাপী গণসংযোগ ও আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।