Dhaka ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ. লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে কিনা -তা জনগণই বিবেচনা করবে: আইন উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
  • ২২৩ Time View

বাংলাদেশে একটি গণহত্যা চালানো পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কিনা? তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিচার-বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবর তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কিনা; জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা আমার বলার জায়গা না। এখন আপনি যদি মনে করেন, যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, আরও চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার মানুষের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে, চোখ কেড়ে নিয়েছে, এখনো তারা সেই অপকর্মের পক্ষে কথা বলে; যদি ফাঁস হওয়া রেকর্ডটা সঠিক হয়, তাহলে এখনো তাদের নেত্রী ২৮৭ জনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্য দেশে বসে সন্ত্রাসী হুমকি দিচ্ছে, যিনি একটা গণহত্যার মামলার আসামি। বিচারের আগে, দায়মুক্তির আগে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে আরও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য? কাজেই সবকিছু একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আপনারা বিবেচনা করে দেখেন, একটা গণহত্যা চালানোর পর এখনো একটা দল বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের এত বড় আন্দোলনের নেতাদের কিশোরগ্যাং বলার চেষ্টা করে, আরও মানুষকে হত্যা করার হুমকি দেয়, সেই দলের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কিনা? তা প্রতিটি মানুষই বিবেচনা করবেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখা যাবে, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। মৃত্যুদÐ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই মৃত্যুদÐ রহিত করার কথা বলে জাতিসংঘ। তাদের একটি অপশনাল প্রটোকল আছে। ওই প্রটোকলের মূলকথাই হচ্ছে মৃত্যুদÐ রদ করার জন্য। কিন্তু পৃথিবীর খুব অল্প দেশেই মৃত্যুদÐ রদ করেছে। এটা তাদের অঙ্গীকার থেকে বলবেই। তিনি বলেন, আমাদের যে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম, আমাদের যে জুডিশিয়াল কালচার আছে, সেগুলোতো আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, মৃত্যুদÐ রহিত করার যে অপশনাল প্রটোকল, তাতে বাংলাদেশের কোনো সরকারই পক্ষরাষ্ট্র হয়নি। আমাদের কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এই অপশনাল প্রটোকলের পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ভলকার টুর্ক। তিনি বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বলেছেন। তাকে বলেছি, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কথা বলেছেন। মৃত্যুদÐের বিধান রহিত করা যায় কিনা বলেছেন। আমরা বলেছি, ফ্যাসিস্টদের বিচারের আগে এটি পরিবর্তনের প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে আপনাদেরকে আমি একটা কথা বলতে পারি-আমাদের সরকারের যে নির্বাচনমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করার যে কাজ সেটা শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে আপনারা বলতে পারেন। উপদেষ্টা বলেন, কারণ নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য যে সার্চ কমিটি, সেই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়ে গেছে। আমি যতদূর জানি, সেই প্রজ্ঞাপনটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাক্ষর করে দিলেই আপনারা জানতে পারবেন। হয়তো উনি করেছেনও আজ-কালের মধ্যে জেনে যাবেন। আসিফ নজরুল বলেন, সার্চ কমিটি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে ভোটার তালিকা…আগেও বলেছি, ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল, গত নির্বাচন এমন ভুয়া নির্বাচন ছিল, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মাথাব্যথা ছিল না। তিনি বলেন, এবার অসাধারণ একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, ভলকার তুর্ককে বলেছি, আমাদের আইনগত যে সংস্কার, সেটাতে তারা জড়িত আছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে আমাদের যদি ফরেনসিক সহায়তা প্রয়োজন হয়, সেটা তারা দেবেন। আমরা এখানে সুবিচার করবো, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিচার করছি না। আগের আদালতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবে আমরা অবিচার করবো না। আমাদের কোনোকিছু লুকানোর নেই। কীভাবে বিচার করা হচ্ছে, যে কেউ এসে, সেটা দেখতে পারবেন বলেও জানান উপদেষ্টা। এসময় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার টুর্ক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। এই দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে সেক্ষেত্রে মানবাধিকার যেন নিশ্চিত করার বিষয়টি বলেছি। জুলাই গণহত্যার বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি কাজ করছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। আমাদের হেড অফিস পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

আ. লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে কিনা -তা জনগণই বিবেচনা করবে: আইন উপদেষ্টা

Update Time : ১২:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশে একটি গণহত্যা চালানো পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কিনা? তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিচার-বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবর তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কিনা; জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা আমার বলার জায়গা না। এখন আপনি যদি মনে করেন, যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, আরও চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার মানুষের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে, চোখ কেড়ে নিয়েছে, এখনো তারা সেই অপকর্মের পক্ষে কথা বলে; যদি ফাঁস হওয়া রেকর্ডটা সঠিক হয়, তাহলে এখনো তাদের নেত্রী ২৮৭ জনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্য দেশে বসে সন্ত্রাসী হুমকি দিচ্ছে, যিনি একটা গণহত্যার মামলার আসামি। বিচারের আগে, দায়মুক্তির আগে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে আরও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য? কাজেই সবকিছু একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আপনারা বিবেচনা করে দেখেন, একটা গণহত্যা চালানোর পর এখনো একটা দল বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের এত বড় আন্দোলনের নেতাদের কিশোরগ্যাং বলার চেষ্টা করে, আরও মানুষকে হত্যা করার হুমকি দেয়, সেই দলের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কিনা? তা প্রতিটি মানুষই বিবেচনা করবেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখা যাবে, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। মৃত্যুদÐ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই মৃত্যুদÐ রহিত করার কথা বলে জাতিসংঘ। তাদের একটি অপশনাল প্রটোকল আছে। ওই প্রটোকলের মূলকথাই হচ্ছে মৃত্যুদÐ রদ করার জন্য। কিন্তু পৃথিবীর খুব অল্প দেশেই মৃত্যুদÐ রদ করেছে। এটা তাদের অঙ্গীকার থেকে বলবেই। তিনি বলেন, আমাদের যে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম, আমাদের যে জুডিশিয়াল কালচার আছে, সেগুলোতো আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, মৃত্যুদÐ রহিত করার যে অপশনাল প্রটোকল, তাতে বাংলাদেশের কোনো সরকারই পক্ষরাষ্ট্র হয়নি। আমাদের কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এই অপশনাল প্রটোকলের পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ভলকার টুর্ক। তিনি বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বলেছেন। তাকে বলেছি, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কথা বলেছেন। মৃত্যুদÐের বিধান রহিত করা যায় কিনা বলেছেন। আমরা বলেছি, ফ্যাসিস্টদের বিচারের আগে এটি পরিবর্তনের প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে আপনাদেরকে আমি একটা কথা বলতে পারি-আমাদের সরকারের যে নির্বাচনমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করার যে কাজ সেটা শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে আপনারা বলতে পারেন। উপদেষ্টা বলেন, কারণ নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য যে সার্চ কমিটি, সেই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়ে গেছে। আমি যতদূর জানি, সেই প্রজ্ঞাপনটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাক্ষর করে দিলেই আপনারা জানতে পারবেন। হয়তো উনি করেছেনও আজ-কালের মধ্যে জেনে যাবেন। আসিফ নজরুল বলেন, সার্চ কমিটি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে ভোটার তালিকা…আগেও বলেছি, ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল, গত নির্বাচন এমন ভুয়া নির্বাচন ছিল, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মাথাব্যথা ছিল না। তিনি বলেন, এবার অসাধারণ একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, ভলকার তুর্ককে বলেছি, আমাদের আইনগত যে সংস্কার, সেটাতে তারা জড়িত আছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে আমাদের যদি ফরেনসিক সহায়তা প্রয়োজন হয়, সেটা তারা দেবেন। আমরা এখানে সুবিচার করবো, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিচার করছি না। আগের আদালতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবে আমরা অবিচার করবো না। আমাদের কোনোকিছু লুকানোর নেই। কীভাবে বিচার করা হচ্ছে, যে কেউ এসে, সেটা দেখতে পারবেন বলেও জানান উপদেষ্টা। এসময় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার টুর্ক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। এই দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে সেক্ষেত্রে মানবাধিকার যেন নিশ্চিত করার বিষয়টি বলেছি। জুলাই গণহত্যার বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি কাজ করছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। আমাদের হেড অফিস পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।