বিনোদন: ৪১তম তেহরান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই বছর জুরি বোর্ডে দুজন দক্ষিণ এশীয় ছিলেন। তারা হলেন অস্কার বিজয়ী এ আর রহমান এবং বাংলাদেশের সাংবাদিক, চলচ্চিত্র সমালোচক ও চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ ঋতি। সাদিয়া খালিদ ঋতি ইতোপূর্বে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবের ফিপ্রেসকি জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত তেহরান চলচ্চিত্র উৎসব মিলাদ টাওয়ার কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। জুরি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ইতালির মায়া কস্টা, ঘানার অ্যান্থনি এনটি, রাশিয়ার একাতেরিনা ইয়াকোলেভা এবং ইরানের আহমেদ রেজা মোতামেদি এবং মাসুদ মাদাদি। ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কে ঋতি বলেন, ‘আমি তেহরানে যাওয়ার পরই এ আর রহমানের জুরি বোর্ডে থাকার কথা জেনেছি। ছোটবেলা থেকেই তার কাজ আমাকে অনুপ্রেরণা যোগাত। বিচার করার পাশাপাশি, তিনি সেখানে একটি ফিল্ম স্কোরিং (ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক) ওয়ার্কশপও পরিচালনা করেছিলেন, যেটিতে আমি যোগ দিতে পারিনি কারণ আমার কিছু স্ক্রিনিং শেষ করার ছিল। জুরি সদস্যদের মধ্যে আরেকজন কিংবদন্তী ছিলেন- ড. আহমেদ রেজা মোতামেদি। উৎসবে অনেক মানুষই তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তার ছাত্র ছিল। সবাই তাকে যে সম্মান দেখিয়েছিল তা থেকে অনুমান করা যায় তিনি কত বড় মাপের মানুষ।’ মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ প্রাচীনতম এই শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এবারের আয়োজনে পৃথিবীর ১৫০টি দেশ থেকে ১৩ হাজারেরও বেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অংশ নেয়। এমন উৎসবে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা কেমন জানতে চাইলে ঋতি বলেন, ‘এই উৎসবে জুরি হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়া অনেক সম্মানের। ইরান এত সুন্দর চলচ্চিত্র বানায় যে প্রতিটি পুরস্কারই ইরানিদের হাতে তুলে না দেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন ছিল। আমি আশা করি আগামী বছরগুলোতে আমরা এখানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রও দেখতে পাব।’ এই বছর ইরানি নারীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ঋতি বলেন, ‘এখানে অনেক নারীকে পুরস্কার জিততে দেখা অনুপ্রেরণাদায়ক। পুরস্কার পায়নি এমন কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্রও নারীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ইরানে বসবাসকারী ইরানিরা যদি তাদের উপর আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে এমন চমৎকার চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারে, তাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমি আশা করি আমরা শিগগির ইরানের সাথে কিছু কালচারাল এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে পারব যা আমাদের নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের অনেক উপকৃত করবে।’ ১৭ অক্টোবর তেহরানের মেল্লাত সিনেপ্লেক্সে ৪১তম তেহরান আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হয়। ইভেন্টের প্রথম দিনে বিভিন্ন বিভাগের ২৩টি শর্ট ফিল্ম প্রদর্শিত হয়। মোট ১০৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শীর্ষ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে। লাইন আপের মধ্যে ছিল ৫৯টি শর্ট ফিকশন চলচ্চিত্র, ২১টি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র, ১৮টি ডকুমেন্টারি এবং নয়টি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র। জমা দেওয়া কাজগুলি ছিল ভারত, চীন, পোল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, গ্রীস, ফ্রান্স, প্যালেস্টাইন, তুরস্ক, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি, ইতালি এবং কিউবা থেকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বিভাগগুলি এই বছর প্রথম যুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন লিফ (উৎসবের গ্র্যান্ড প্রাইজ) জিতে নেয় প্যালেস্টাইনের ইব্রাহিম হান্দালের ‘এ শর্ট ফিল্ম এবাউট কিড‘। এই পুরস্কার জেতার মাধ্যমে, চলচ্চিত্রটি অস্কারে প্রতিযোগিতার জন্য অনুমোদিত হয়।