1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিদেশ: ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৮ হাজার মানুষ এখনো গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৮০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পে সবচেয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল কারাকাস ও লা গুয়াইরার ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ অবস্থান করছেন। গত সোমবার লা গুয়াইরায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই অঞ্চলে বর্তমানে গণকবরের প্রস্তুতি চলছে। তারা ট্রাক ও ফরেনসিক কর্মীদের সারি সারি কফিন পরিবহন করতে দেখেছেন। সাদা ক্রুশ দিয়ে চিহ্নিত একটি খোলা জায়গায় ভারী খননযন্ত্র দিয়ে বড় গর্ত খনন করা হচ্ছিল, যেখানে কর্তৃপক্ষ মরদেহ দাফন করছে। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্প কারাকাস ও লা গুয়াইরা এবং এর আশেপাশে এলাকায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার বাড়িঘর ও বহুতল ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনস্বাস্থ্য। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ভেনেজুয়েলান বিশুদ্ধ পানির অভাবের মধ্যে ভিড়াক্রান্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বা খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষের আঘাতের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি এবং তারা সংক্রামক রোগে ভুগছেন, যা মোকাবিলা করতে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত হিমশিম খাচ্ছে। কারাকাসের হোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজ হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক ইউজেনিও কোভা সতর্ক করে বলেন, “আমরা শারীরিক ও মানসিক ট্রমার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি ঠিকই, কিন্তু এখন বড় বিপর্যয় হয়ে আসছে সংক্রমণ। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকায় রোগীদের মাঝে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।” আল-জাজিরার প্রতিনিধি তেরেসা বো লা গুয়াইরার একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে জানান, দুর্গত মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। আশ্রয়প্রার্থীরা জরুরি ভিত্তিতে পোর্টেবল টয়লেট এবং ভিড় কমানোর জন্য সরকারি উদ্যোগের দাবি জানাচ্ছেন। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভেনেজুয়েলা সরকারের ধীরগতি এবং সমন্বয়হীনতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকাতেই সরকারের কোনো দেখা মেলেনি। ফলে সাধারণ নাগরিক, স্বেচ্ছাসেবী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থাই এখন নিজ উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধার ও খাবার বিতরণের কাজ করছে। ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকা নামক মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থার প্রেসিডেন্ট ক্যারোলিনা জিমেনেজ সরকারের এই ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন। জিমেনেজ বলেন, “যেকোনো স্বাভাবিক দেশে দুর্যোগের পর রাষ্ট্র সবার আগে এগিয়ে আসে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সবার শেষে সাড়া দিয়েছে। কাতিয়া লা মার-এর মতো অনেক দুর্গত এলাকায় এখনও প্রশাসনের কোনো অস্তিত্ব নেই। যা কিছু সাহায্য পৌঁছাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকদের হাত ধরেই আসছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd