২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-এর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি কেবল মাঠের ফুটবল রোমাঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকল না; ম্যাচ শেষে তা রূপ নিল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনায়।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মিসরের ফিলিস্তিনপন্থী কোচ হোসাম হাসান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। চলতি বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান।
তার এই সাহসী অবস্থানের কারণে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষ মিসরীয় পতাকা হাতে বড় পর্দায় খেলা দেখেছে এবং ধ্বংসস্তূপের ওপর কোচের বড় ব্যানার টাঙিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও নিজের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন মিসরীয় কোচ। যুদ্ধকে বিশ্ব মানবতার জন্য এক বড় লজ্জা আখ্যা দিয়ে হোসাম হাসান বলেছিলেন, ‘যদি কেউ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করতে না পারে, তবে বুঝতে হবে তার মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ব বা মানবতাবোধ নেই। এই সংহতি আমার ভেতর থেকে এসেছে কারণ আমি একজন মানুষ, ঠিক যেমন মানুষ সেখানে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। এটি শুধু আরব বিশ্বের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর জন্য একটি লজ্জার বিষয়।’
মাঠে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের রূপকথা থামলেও, মাঠ ছাড়ার সময় রাজনৈতিক উসকানির মুখে হোসাম হাসানের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।