1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

‎অবহেলিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পাইকগাছার কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ; ভবনের অভাবে বারান্দা ও টিনের ছাউনিতে চলছে ক্লাস

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
‎ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা): ‎খুলনার পাইকগাছার ঐতিহাসিক কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি চরম অবহেলা আর নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় ঐতিহাসিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। ২০১৫ সালে নির্মিত ৩ কক্ষের একটি একতলা ভবনে কোন রকমে চলছে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম।
‎জেলার পাইকগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এক ইউনিয়ন রাড়ুলী। ইউনিয়নটিকে গুণীদের উর্বর ভূমি বলা হয়ে থাকে। এই ভূমিতেই জন্মগ্রহণ করেছেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। এখানকার আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ইউনিয়নের কাটীপাড়ায় রয়েছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মামার বাড়ি। গৌর প্রসন্ন ঘোষ ছিলেন কবির নানা আর বংশীধর ঘোষ ছিলেন মধুসূদন দত্তের মামা। অনেকেই বলেন মামার বাড়িতেই কবির জন্ম, আবার অনেকেই বলেন মামার বাড়িতেই বেড়ে উঠেছেন মহাকবি। কাটীপাড়া বাজারের পাশেই কবির মামাদের বসতবাড়ি। বসতবাড়ির দোল মন্দিরের গাঁ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন অমরনাথ বসু। বিদ্যালয়ের অনূকূলে দুই একর জমি দান করেন তিনি। যার মধ্যে এক একরের উপর রয়েছে স্কুল এবং এক একর রয়েছে ফসলি জমি। দানীয় এ সম্পত্তি এক সময় কবির মামাদের ছিল বলে বসু পরিবারের লোকজন জানান। বিদ্যালয় টি শুরতেই জুনিয়র পর্যায়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৬ জুলাই বিদ্যালয়টি উন্নীত হয় মাধ্যমিক পর্যায়ে। ২০১৫ সালে সরকারের ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ থেকে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী।
‎শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণীকক্ষ অপ্রতুল হওয়ায় অনেকটাই বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হচ্ছে বারান্দা কিংবা মাঠের পাশে অস্থায়ী টিনের ছাউনির তলায়।
এমন পরিবেশে ক্লাস করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী রা। এতে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম।
‎শ্রেণি শিক্ষক প্রমা ঘোষ বলেন শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে আমরা বাধ্য হয়েই বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়। কখনো কখনো টিনের ছাউনির নিচে ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। আবার  ঝড়বৃষ্টির সময় কখনো কখনো ক্লাস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়।
‎সমস্যার যেন কোন অন্ত নেই ঐতিহাসিক এ বিদ্যাপিঠের। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন সীমানা প্রাচীর। ফলে প্রতিনিয়ত বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এলাকার গবাদিপশু মাঠে ঢুকে মাঠের পরিবেশ নোংরা করার পাশাপাশি লাগানো গাছপালা নষ্ট করছে প্রতিদিন।
‎এছাড়া ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য নেই কোন উন্নতমানের ওয়াশ ব্লক। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা মনে করছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। দশম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন নারী বান্ধব টয়লেট না থাকায় অনেক ছাত্রী বিশেষ সময়ে তারা স্কুলে আসে না। প্রতিবন্ধীদের জন্যে ও আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানান শিক্ষার্থী তুলি দেবনাথ।
‎ঐতিহাসিক বিদ্যাপিঠের এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহল। সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা বলেন মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে যে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তা এভাবে অবহেলিত থাকতে পারে না। বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সহ সামগ্রিক উন্নয়ন প্রয়োজন বলে স্থানীয় এ শিক্ষানুরাগী মনে করছেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোপাল দাশ বলেন মহাকবি-র স্মৃতিধন্য প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষার অনূকূল পরিবেশ না থাকায় আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন জরুরি বলে জানান শিক্ষার্থী সজীব বিশ্বাস। প্রধান শিক্ষক শিবশংকর রায় বলেন একতলা ভবনে ৩ টি কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে দুটি কক্ষে পাঠদান এবং একটি কক্ষে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য একটি বহুতল ভবন জরুরি প্রয়োজন। ভবনের জন্য ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার উপ সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বলেন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে আমি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। এখানে ভবনের প্রয়োজনীতা আমি নিজেই অনুভব করেছি এবং বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ, পুরাতন ভবন উর্ধমূখীকরণ, সীমানা প্রাচীর ও উন্নত ওয়াশ ব্লক তৈরি সহ সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd