বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি কর্তৃক ওই মাদ্রাসার ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে লাঞ্চিত ও মারপিটের ঘটনায় রবিবার( ৫ জুলাই) সকালে বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করেছেন|
মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনের সড়কে পরীক্ষা বর্জন করে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক অবিভাবক ও শতাধিক শিক্ষার্থীরা| মানববন্ধন থেকে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গুলিশাখালী ফজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি গত ২৯ জুন তার চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও গায়ের জোরে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানে পুনরায় চুক্তি ভিত্তিক অধ্যাক্ষ পদে থাকার পায়তারা করছেন| তিনি মাদ্রাসায় দায়িত্বে থাকাকালীন শিক্ষকদের সাথে দুর ব্যবহার কোন কারন অকারনে শোকাজ করে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় সহ নানাবিধ অনিয়ম করায় প্রতিবাদে শিক্ষকরা এ দাবী তোলেন। তার মেয়াদ শেষ তিনি সম্মানে বিদায় নিয়ে অবসর গ্রহন করবেন তা না করে নতুন করে কৌশল করে ম্যানেজিং কমিটির শুপারিশ নিয়ে চুক্তি ভিত্তিক মাদ্রাসায় ২ বছরের জন্য পুনরায় থাকার প্রস্তাবনা পাঠায় মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট| এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত বুধবার মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলিরা প্রতিবাদ সভা করে তাকে মাদ্রাসায় পুনারয় অধ্যাক্ষ পদে বহাল না রাখার জন্য দাবী জানান| তারি জেরে গত শনিবার সকালে গুলিশাখালী বাজারে মাদ্রাসার ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি লাঞ্চিত করে| এ ঘটনার বিচারের দাবী জানিয়ে রবিবার বেলা ১১ টা থেকে ঘন্টা ব্যাপী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ৩য় দিনের পরীক্ষা বর্জন , বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন| এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার উপ-অধ্যাক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক মাওলানা মজিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক্ষ মোঃ শাহ আলম, সহকারী শিক্ষক আল মামুন, ইফতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তার, কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগম, শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফফার, শিক্ষার্থী নবীন, রোমেনা আক্তার, আব্দুল্লাহ,শাহিদা আক্তার, মোরশেদা, অবিভাবক আব্দুল আউয়াল তালুকদার, দেলোয়ার গাজী, হাফিজা বেগম সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ প্রমুখ ।এ সময় বক্তারা বেলন শিক্ষককে মারপিটের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষা দিবে না| প্রয়োজনে কর্মসূচি ঘোষনা করবেন,| একই সাথে মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি কে পুনরায় চুক্তি ভিত্তিক অনুমোদনের বাতিলের দাবী জানান উদ্ধর্তন প্রশাসনের প্রতি|
এ ঘটনা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, গুলিশাখালী ফজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে দন্দের পরিস্থিতির আলোকে সহকারী অধ্যাক্ষ এর সাথে কথা বলেছি কোন ভাবেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন না করে, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে| শিক্ষককে মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন র্শঙ্খলা অবনতি না হয় সে বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে| বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কে ও অবহিত করা হয়েছে| ##